বকেয়া হকের পারিশ্রমিক পেতে জোট বাঁধছে ১০০ দিনের কাজের শ্রমিকরা

মলয় দে নদীয়া :- কেউ পুঁতেছেন গাছ কেউবা শ্রম দিয়েছেন রাস্তা মেরামতিতে। কোথাও আবার ঘাম ঝরিয়ে কেটেছেন পুকুর । ব্যক্তিগত নয় সরকারি নির্দেশেই ১০০ দিনের কাজ করেছিলেন তারা। কারোর তিন মাস অর্থাৎ ৯০ দিনের, কেউবা ৪৫ দিনের দৈনিক ২০৪ টাকা রোজ হিসাবে মজুরি পাবেন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। গৃহ আবাস যোজনায়, ১০০ দিনের কাজ করা জব কার্ডধারী গ্রাহকেরও মেলেনি অর্থ। এভাবেই বছরের পর বছর প্রতীক্ষায় থাকার পর, না পাচ্ছেন হকের টাকা না মিলছে নতুন কাজ।
সারা রাজ্যে একই অবস্থা 100 দিনের শ্রমিকদের। যদিও এ প্রসঙ্গে বিজেপির দাবি বিভিন্ন পঞ্চায়েত এই প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি চালিয়েছে। যা ধরাও পড়েছে বহু ক্ষেত্রে, সেখানে তদন্তভিত্তিক বিচারাধীন বিষয় হয়ে বিচারাধীন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এই বিলম্ব। কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সমস্ত প্রকল্পের নাম পাল্টে এ রাজ্যে শাসক দল, তার থেকে কাট মানি নিতে ব্যস্ত। মানুষের এই ভোগান্তির জন্য তৃণমূলকেই দায়ী করেছে বিজেপি। তাদের দাবি, কৃষক, শ্রমিক, বিশেষভাবে সক্ষম, সমস্ত ভাতা আবাস যোজনা সহ সমস্ত উন্নয়নকল্পে আসা টাকা কোথাও স্বজন পোষণ কোথাও আবার অর্থের বিনিময়ে পেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তাইতো কেন্দ্রীয় সরকার, কৃষক সম্মাননিধি, উজালা গ্যাস সহ বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা দল-মত নির্বিশেষে গ্রাহকের নিজস্ব একাউন্টে পাঠানোর ব্যবস্থা শুরু করেছে। কিন্তু রাজ্য সরকার তার প্রকল্প অফলাইনে করে এই জন্য যাতে রাজনীতির স্বার্থে মুখ দেখে এবং কাটমানি নিয়ে সরকারি প্রকল্প বিক্রি করে।
যদিও এ বিষয়ে তৃণমূলের পক্ষে বলা হয়, অতীতে কন্যাশ্রী সবুজ সাথী বর্তমানে লক্ষীর ভান্ডার সহ নানান বিষয়ে তদন্তের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকার পুরস্কৃত করেছে এ রাজ্যকে। এমনকি কোথাও কোথাও বাংলার এই প্রকল্প মডেল হিসেবে চালু করা হয়েছে অন্য রাজ্যেও। সেখানে দুর্নীতি প্রসঙ্গ তুলে, গরিব শ্রমিকদের বঞ্চিত রাখার কোন মানে হয় না। এর যোগ্য জবাব দিতে মানুষ প্রস্তুত রয়েছে আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে। ইতিমধ্যেই সংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে শ্রমিকদের প্রাপ্য বকেয়া মজুরির দাবিতে দরবার করেছে। কিন্তু সেখানে তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাই দলীয়ভাবে আগামীতে ছাড়া রাজ্যে ১০০ দিনের কাজের বঞ্চিত শ্রমজীবী মানুষদের আবেদন সংগ্রহ করে তিনি দ্বিতীয়বার প্রচেষ্টা চালাবেন। তাতেও যদি কাজ না হয় বাংলার শ্রমজীবী মানুষ একত্রিত হয়ে রাজ্য ব্যাপী আন্দোলন গড়ে তুলবে।
আজ নদীয়ার শান্তিপুর ব্লকের নবলা পঞ্চায়েতের জ্যোতিপল্লী এবং হরিপুর পঞ্চায়েতের মেলের মাঠ এলাকায় এ ধরনের আবেদন সংগ্রহ করার কাজ করতে দেখা যায় এলাকাবাসীদের।
তারা জানান বিডিও পঞ্চায়েত অফিস ঘুরেও কোন লাভ হয়নি, এবার পঞ্চায়েত দপ্তর এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আবেদন করতে চলেছেন তারা। তবে রাজনৈতিক ভাবে কেন্দ্র রাজ্যের সম্পর্ক যাই হোক, হকের টাকা না পেয়ে তারা যথেষ্ট সমস্যার মধ্যে রয়েছেন বলেই জানিয়েছেন তার উপর নতুন কাজ নেই। স্বল্প পড়াশোনা জানার কারণে, পাড়ার পড়াশোনা যেন ছেলেদের সহযোগিতায় তারা আবেদন পাঠাচ্ছেন বিভাগীয় দপ্তরে।