মলয় দে নদীয়া :-নদীয়ার শান্তিপুর ব্লকের বাগআঁচড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বাগদেবীতলায় সি সি রোড থেকে স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল মন্ডলের বাড়ি পর্যন্ত একটি রাস্তার জন্য টাকা বরাদ্দ হয়ে রাস্তা তৈরি হয়ে গেলেও শেষপর্যন্ত সম্পূর্ণ হয়নি সেই রাস্তা। দুলাল মন্ডলের বাড়ির প্রায় ৩০ ফুট আগে পর্যন্ত এসে থমকে গিয়েছে সেই রাস্তা। অভিযোগ উঠেছে, ওই পঞ্চায়েতের সদস্যা কর্মাধ্যক্ষ্যা সুস্মিতা মন্ডলের স্বামী কৃষ্ণ মন্ডলের কথামতো দুলাল মন্ডল এর বাড়ির আগে দুটি পরিবার রাস্তা তৈরির জন্য জমি ছাড়তে রাজি নন। সেই কারণেই দুলাল মণ্ডলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সম্পূর্ণ করা যায়নি। প্রায় ৩০ ফুট আগেই সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে সেই রাস্তা। ইতিমধ্যেই ওই রাস্তার জন্য বরাদ্দকৃত টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত সেই রাস্তা সম্পন্ন করার দাবি তুলে দুলাল মন্ডল ইতিমধ্যেই প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে অভিযোগ করেছেন। দুলাল মন্ডল এর স্ত্রী রেবা মন্ডল অভিযোগ করেছেন,’আমার স্বামী দুলাল মন্ডল এর নামে রাস্তা তৈরিতে নেমপ্লেট লাগিয়ে দেওয়া হলেও আমাদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা টানা হয়নি, আর এই প্রশ্নের উত্তর সকলকে দিতেও পারছেন না তিনি। বিষয়টি তিনি পঞ্চায়েত সদস্যকে জানালেও তিনি কোনো উচ্চবাচ্য করেননি। তার কারণ যে দুটি পরিবার তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে রাস্তা তৈরি করতে বাধা দিয়েছে,সেই দুটি পরিবার আসলে ওই পঞ্চায়েত সদস্যের আত্মীয়। এই রাস্তা নির্মাণের জন্য মাটি কিনে তিন ট্রাকটার মাটি রাস্তার উপর ফেলেছি। অথচ শেষ পর্যন্ত আমাদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা করা হয়নি। বিষয়টি আমি প্রশাসনিক মহলে লিখিতভাবে জানিয়েছি। আমার স্বামী বিষয়টি বিডিওর কাছে জানিয়ে লিখিত কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। এখন সরকারি কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটাই এখন দেখার।’যদিও ওই পঞ্চায়েতের কর্মাধ্যক্ষর স্বামী কৃষ্ণ মন্ডল জানিয়েছেন,’ওই রাস্তার জন্য জমি না ছাড়লে জোর করে কারোর ব্যক্তিগত জমির উপর সরকারি কাজ হয় না, তবে তার আত্মীয়র বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন সরকারী কাজ আত্মীয় দল মত দেখে হয় না। তারা রাস্তার জন্য জমি ছাড়তে রাজি হননি। যে দুটি বাড়ি রাস্তা তৈরির জন্য জমি ছাড়তে রাজি নয়,তারা আমার আত্মীয়,তাদের আমি বুঝিয়ে রাস্তার জন্য জমি ছাড়তে দেইনি বলে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, সেই অভিযোগ ঠিক নয়। আমরা চাই,সবার জন্যই রাস্তা হোক। তবে যারা জমি ছাড়তে রাজি হননি,তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়া যেত। অথচ অভিযোগ, দুলাল মন্ডল তার বাড়ির পেছনে দুজনকে রাস্তা তৈরির জন্য জমি না ছাড়ার কারণে তারা প্রচন্ড অসুবিধায় রয়েছেন। সেই জমি ছাড়া হলেই দুলাল মন্ডল এর বাড়ির সামনের দুজন জমি ছেড়ে দিতে রাস্তার জন্য রাজি আছেন বলে আমি জানি। তাহলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।’যদিও দুলাল মন্ডল এর অভিযোগ,’আমি এর আগে বিজেপি করতাম। গত উপনির্বাচনের সময় থেকে আমি তৃণমূল কংগ্রেস করি ঠিকই। কিন্তু সব মিটিং মিছিলে না যাওয়ার জন্য আমার ওপরে রাগ দেখিয়েই আমার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার কাজ সম্পন্ন করা হয়নি।
বাগআঁচড়ারা পঞ্চায়েত প্রধান, মমতা ধারা বলেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা এলাকাবাসীকে দেওয়া হয় দলমত নির্বিশেষে। তিনি এখনো যদি, এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে নো অবজেকেশন দেখাতে পারেন তাহলে ওই রাস্তা নিশ্চয়ই হবে। তবে এলাকা সূত্রে, খবর পেয়েছি উনিও তার পেছনে দুটো বাড়িকে চলাচল করতে দেন না উনার জমির উপর দিয়ে। এটাও কাম্য নয়। ভারতীয় জনতা পার্টি
মন্ডল একের সভাপতি কমল বিশ্বাস বলেন, এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রমাণিত প্রতিহিংসা মূলক। আমি নিজেও একজন মেম্বার রাস্তা নির্মাণের বিষয়টি ভালো জানি। ও যদি তৃণমূল করত, তাহলেই সমস্ত নিয়ম শিথিল হয়ে যেতো। তবে আসন্ন পঞ্চায়েতে, মানুষ এরকম বহু ঘটনার যোগ্য জবাব দিতে প্রস্তুত।

