আজও নড়বলি হয় আকালি মায়ের মন্দিরে, এমনকি কালীপুজোর রাতে নৈশলীলা করেন মা

মৌমিতা দেবনাথ
আজও নড়বলি হয় আকালি মায়ের মন্দিরে, এমনকি কালীপুজোর রাতে নৈশলীলা করেন মা
বাংলার বহু প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে জাগ্রত কালী মায়ের নানান লোককথা। মা কালীর বিভিন্ন রূপের পূজো নিয়ে আজও প্রচলিত আছে তন্ত্রসাধনার এমন অনেক লোককথা যা শুনলে গা ছমছম করে ওঠে। আর পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম হল তন্ত্রসাধনার অন্যতম পীঠস্থান। তারাপীঠের তন্ত্র সাধনার কথা তো সবাই শুনেছেন কিন্তু জানেন কি বীরভূমের রামপুরহাট থেকে কুড়ি কিলোমিটার দূরে এবং নলহাটি থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে বিশেষ প্রসিদ্ধ আকালি মা। এই মন্দিরে মা কালীর বিদ্রোহ থাকলেও কালীপুজোর রাতে কোন রকমের পুজো হয় না। জানা যায় ওই দিন রাতেই নাকি মা নৈশলীলায় বেরোন। তাই ভক্তদের সমাগম ঘটে মায়ের লীলায় বাধা পড়বে তাই নিত্য পূজো হয়ে থাকে এই মন্দিরে।নিত্যদিনের মতোই পুজো করে শয়ন দেওয়া হয় আকালি মা গুহ্য কালীকে। জানা যায়, ১৭৭৫ সালে মহারাজ নন্দকুমার মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এই পোড়াবাড়ির মন্দির চত্বরে গেলেই নাকি গা ছমছম করে ওঠে ভক্তদের। শুধু তাই নয় মাকে নিয়ে প্রচলিত আছে যে পাশের গ্রাম থেকে একটি শিশু এনে নরবলি দেওয়া হয় এই পুজোয়। তবে কালীপুজোর দিন না হলেও, দুর্গাপুজোর পর চতুর্দশীর দিন এবং পৌষ সংক্রান্তির দিনে আকালি মায়ের পুজো করা হয়। ভক্তদের মধ্যে বিশ্বাস আছে যে মন্দিরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রাহ্মণী নদীতে স্নান করে মায়ের পুজো দিলে সকলের মনস্কামনা পূর্ণ হয়। আকালি মায়ের পুজো দেখতে বহুদূরান্ত থেকে লাখ লাখ ভক্তদের সমাগম ঘটে এই মন্দির চত্বরে এমনকি পুজোর শেষে ভক্তদের জন্য প্রসাদেরও আয়োজন করা হয়। কি অদ্ভুত এই বাংলার রূপকথা না প্রাচীন এই বাংলার নানা প্রান্ত জুড়ে ছড়িয়ে আছে এমন অনেক প্রচারিত কথা যা শুনলেই আজও গা ঝমঝম করে ওঠে এবং ভক্তরা তা বিশ্বাস করেন মনে প্রাণে।