শহরে ক্রমশ বাড়ছে ওভারলোড বালির গাড়ির দাপট

শহরে ক্রমশ বাড়ছে ওভারলোড বালির গাড়ির দাপট

মলয় দে নদীয়া:-“বালি..তে তোমার নাম লিখে দেব” অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় এই গানটি সদ্যপ্রয়াত সংগীতশিল্পী বাপি লাহিড়ীর লেখা। গানের পরের লাইন “জলে ধুয়ে যাবে….” । কিন্তু আমরা যে বালির কথা শোনাবো তাতে প্রতিটা বালির কণায় লেখা থাকছে সরকারি আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অনিয়ম আর ব্যভিচারের চরম দৃষ্টান্ত। যা সাধারণ মানুষের চোখের জলেও ধুয়ে যাচ্ছে না।
পরিচয় আত্মগোপন করে লরি ড্রাইভাররা জানান বিভিন্ন থানায় খাতা করার পরেও, কাটোয়া থেকে কল্যাণী পৌঁছাতে ছটি থানাকে খুশি করতে গিয়ে 22 টাকার বালি সোজা 34 টাকা। সাঁইথিয়া 45 থেকে বেড়ে 53 টাকা। এর পর তো স্পটফাইন প্রতি গাড়ি 200 টাকা আছেই।
দীর্ঘদিন লকডাউনে কর্মহীন থাকা সাধারন মানুষ ইট বালি সিমেন্ট কিনে বাড়ি করার আশা ছেড়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ওভারলোড বালির গাড়ি যাওয়ার ফলে রাস্তার অবস্থাও বেহাল।
বিজেপি অভিযোগ করছে, এ চিত্র শুধু শান্তিপুর বা নদীয়ায় নয়, গোটা রাজ্যে । মুখ্যমন্ত্রীর ভাইয়েরা স্থানীয় প্রশাসনকে সাথে নিয়ে এ ব্যবসা চালাচ্ছে রমরমা। ভাগের ভাগ পৌঁছায় উঁচুতলা পর্যন্ত। সন্ত্রাসের ভয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে পারছেনা।
যদিও সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ কে সজাগ থাকতে বলেছেন, গঙ্গার বালি এবং মাটি কাটার বিষয়ে। পুলিশ অবশ্য তাদের সমস্যায় না ফেলে পৌঁছে দিতে সহায়তা করছেন গন্তব্যে।
তৃণমূল পরিচালিত শান্তিপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ জানান , ন্যাশনাল হাইওয়ে দিয়ে ওভারলোড এর বালির গাড়ি গেলেও তা দেখার এক্তিয়ার আমাদের নেই। তবে পুরসভার রাস্তার উপর দিয়ে গেলে, আইনঅনুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওভারলোড ঠেকানোর জন্য শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ওভার গেট লাগানো হয়েছে। যদিও তার বেশিরভাগ ভাঙ্গা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অবিলম্বে সরানো হবে।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন , গঙ্গার ড্রেজিং না করিয়ে, রাতের অন্ধকারে অবৈধভাবে পাড়ের বালি কেটে বিক্রি তাও আবার চড়া দামে! এর থেকে সাধারণ মানুষের পরিত্রান কবে মিলবে?