নদীয়ার নবদ্বীপে পারিবারিক অনটনে স্কুল পড়ুয়া ঠান্ডা পানীয় বেচে মানুষের তৃষ্ণা মিটিয়ে, যোগাচ্ছে নিজের পড়াশুনার খরচ

দীর্ঘ প্রায় ২ বছর ধরে কোরোনা পরিস্থিতির কারনে অনেকে কাজ হারিয়ে জমা অর্থ ভেঙে দিন চালাচ্ছে আবার অনেকে অন্য কাজের দিকে চলে গেছে ।কোরোনা পরিস্থিতির স্বীকার হয়েছেন অনেকে । তার মধ্যে আজকের এই চিত্রটি সব মানুষের চোখে জল আনবে । নবদ্বীপ শহরের একাধিক জায়গায় একটি সাইকেল নিয়ে ঘুরতে দেখা যায় এই বাচ্চা ছেলেটিকে । একটি সাইকেল আর সাইকেলের পিছনে বাঁধা একটি থার্মোকলের পেটি যাতে রয়েছে বরফ দেওয়া পেপসির প্যাকেট এবং জলের বোতল ।আর মুখে পেপসি নেবেন !জলের বোতল নেবেন কেও ? এই রকম হাঁক দিতে দিতে এগিয়ে চলে তপ্ত নিস্তব্ধ দুপুরে ।
কেও কেও কিনছেন আবার কেও মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছেন! পানীয়র ঠান্ডা কমে গেলে বাবুদের মেজাজ গরমে শুনতে হয় কটু কথা
নবদ্বীপের কোলের ডাঙা অঙ্চলের বাসিন্দা এই ছোটো ছেলেটির নাম পলাশ দেবনাথ ,বাবার নাম অজয় দেবনাথ । আগে নবদ্বীপের স্বরুপগঙ্জে থাকতেন এবং মিষ্টির দোকানে কাজ করতেন ছেলেটির বাবা অজয় দেবনাথ । কোরোনা বিধির ফলে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল মিষ্টির দোকান! ফলে রোজগারের পথ বন্ধ হওয়ায় চলে আসেন নবদ্বীপের কোলের ডাঙায় । সেখানেই থাকে ঐ পরিবার ।
করনার জন্য একদিকে বাবার কাজ বন্ধ হওয়ায় বাবা যেমন টোটো নিয়ে রাস্তায় উপার্জনের জন্য ঘোরেন, অন্যদিকে ছেলে পলাশের স্কুল বন্ধ থাকায় সে একটি সাইকেলে একটি থার্মোকলের পেটি নিয়ে তাতে,কয়েকটি পেপসি আর জলের বোতল নিয়ে বরফ দিয়ে গরমে মানুষের তেষ্টা মেটানোর মাধ্যমিক স্কুলের খরচ জোগাতে বেরিয়েছে ।
সেই ছেলেটি ঠিক করে এখনো সাইকেল ও চালাতে পারেনা । অথচ সংসারে ভার খানিকটা তারউপরও আছে ।
পলাশ জানায় আমি ক্লাস সেভেনে পড়ি, এখন স্কুল বন্ধ থাকায় রোজ সাইকেল নিয়ে নবদ্বীপের অনেক জায়গায় যাই পেপসি বিক্রী করতে ।প্রতিদিন প্রায় 50টি করে পেপসি বিক্রী হয়, তবে এখন বর্ষা এসে যাওয়ার ফলে বিক্রিতে ঘাটতি পরেছে কিছুটা।
সকাল ৭ টায় বাড়িথেকে জল ও বিস্কুট খেয়ে রোজ বের হই, আর ৪ টের সময় আবার বাড়ি ফিরি । খিদে পেলে মাঝে কোথাও এক জায়গায় পরটা খেয়ে নিই ।