জলাশয় বন্ধ করে সোসাইটির হাট তৈরীতে এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শান্তিপুর পৌরসভার পর্যবেক্ষণ

জলাশয় বন্ধ করে সোসাইটির হাট তৈরীতে এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শান্তিপুর পৌরসভার পর্যবেক্ষণ

মলয় দে নদীয়া:- শান্তিপুর শহরের নতুনহাট অঞ্চলে সুবিশাল একটি জলাভূমি বুজিয়ে কাপড়ের হাট করার বিরুদ্ধে এলাকার কয়েকজন শান্তিপুর পৌরসভার একটি পিটিশন জমা করেছিলেন। আর তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে শান্তিপুর পৌরসভার বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং পুরপ্রধান সুব্রত ঘোষ উপস্থিত হন ওই স্থানে। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি দেখতে এবং সোসাইটি সম্পাদক অশোক ঘোষের সাথে কথা বলতে এসেছিলাম, তাকে পৌরসভাতে সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে দেখা করতে বলা হয়েছে। আইনের উর্দ্ধে আমরা কেউই নই। কাগজপত্র খতিয়ে দেখে তবেই সিদ্ধান্ত জানানো যাবে।
1944 সাল থেকে সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত শান্তিপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল কো-অপারেটিভ সোসাইটির বর্তমান সম্পাদক অশোক ঘোষ জানান, স্থানীয় কিছু হাট মালিক নিজস্ব মুনাফার কথা ভেবে চড়া দামে চালা বিক্রয় করেছেন। বর্তমানে সরকারি তত্ত্বাবধানে হ্যান্ডলুম দপ্তরের অনুমতিক্রমে এই হাট গঠিত হওয়ার ফলে সোসাইটির বর্তমান সদস্য 130 জনই শুধু নয়, অত্যন্ত স্বল্পমুল্যে প্রকৃতপক্ষে তাঁতিরা সামান্য মূল্যের এই চালা কেনার পর ভাড়াটিয়া হিসাবে নন, পাবেন মালিকানা স্বত্ব। হাট সম্পর্কিত আরো অন্যান্য বিভিন্ন বিষয়ে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে, যা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না আশেপাশে কয়েকজন হাট মালিক , তারাই মাত্র কয়েক জনকে দিয়ে পৌরসভার কাছে একটি পিটিশন জমা করেছেন‌। তিনি আরো বলেন, বর্তমান আপনারা যেখানে জল জমা দেখছেন সেটি এক নম্বর দাগে এবং দুই নম্বর দাগে অবস্থিত শিশুপার্ক।সেটি আগছ প্রকৃতপক্ষে ডোবা ছিলো, দুটি জায়গাই সোসাইটির। তৎকালীন সময় শিশুদের কথা মাথায় রেখে কোনরকম কাগজপত্র ছাড়াই শুরু সম্পর্কের জেরে ওই পার্কটি নির্মাণে সোসাইটির নিঃশর্তে পৌরসভাকে জায়গাটি দিয়ে দেয়। এবং সে সময় এক নম্বর দাগ অর্থাৎ বর্তমানে জল জমা অংশটির মাটি কেটে পার্কে ফেলা হয়। তার ফলে আশেপাশের জল জমা হয়ে তৈরি হয়েছে জলাশয়। সমস্ত কাগজপত্র খতিয়ে দেখে তবেই তৎকালীন মন্ত্রী রত্না ঘোষ এবং স্বপন দেবনাথ হাট তৈরীর পক্ষে সম্মতি প্রদান করানোর কাজে সহযোগিতা করেন। প্রয়াত প্রাক্তন চেয়ারম্যান অজয় দে এবং জেলা সভাধিপতি রিক্তা কুন্ডু উদ্বোধন করে যান। তাদের অনুরোধে জল নিষ্কাশন করা হলেও কিছুটা অংশ জলাশয় হিসাবেই রাখা হবে পার্কে আসা শিশুদের কথা এবং পরিবেশের ভেবে।
যদিও এ বিষয়ে অন্যান্য হাট মালিকরা বলেন, সিএস পর্চা অনুযায়ী শহরের 9,18 এবং 10 নম্বরের সংযোগস্থলে এই পুকুর প্রায় 200 বছরের প্রাচীন। আর এ বিষয়ে আর পাঁচজন সাধারণ নাগরিকদের মতন তাদের দাবি, জলাশয় ভরাট হলে সামান্য বৃষ্টিতেও নিমজ্জিত থাকবে সমগ্র সুত্রাগড় অঞ্চল।
এলাকার প্রবীণ মানুষরা বলেন, কাগজে কি আছে জানিনা তবে এ পুকুর বহুদিনের। সরকার কি চাইবে, জলাশয় বন্ধ করে নিকাশি ব্যবস্থা বিপর্যস্ত করে উন্নয়ন করতে?