ছোট্ট শিশু প্রিয়ার নেই কাছে নেই বাবা-মা, কষ্টে মানুষ হচ্ছে ঠাকুরদার কাছে

মনোরঞ্জন রায়,শালকুমারঃ আলিপুরদুয়ার ১ নং ব্লকের অন্তর্গত শালকুমার হাট এলাকায় ছোট্ট একটি শিশুর কাছে নেই বাবা মা। কর্মসূত্রে ৬-৭মাস আগে বাইরে গিয়েছিলো ছোট্ট শিশুটির বাবা।ঠিক তার দু-তিন মাস পর মাও বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে গেল। বাবা- মা না থাকাতে একপ্রকার অনাথ হয়ে গেল ছোট্ট শিশুটি।বাড়িতে শুধু ঠাকুরদা।নেই ঠাকুরমা। মা বাবা স্নেহের পরশ ছাড়া বাচ্চা শিশুটির জীবন যাপন কঠিন চ্যালেঞ্জ এর সামনে।শিশু প্রিয়ার বয়স মাত্র সাড়ে চার বছর।প্রিয়া পারেনা কথা বলতে, পারেনা কানে শুনতে, পারেনা নিজের হাতে খেতে।এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ঠাকুরদা কে সবকিছু সামলাতে হচ্ছে। প্রিয়ার ঠাকুরদার শরীর ভালো নয়, কিছুদিন আগে দুবার টিবি হয়েছেলো এখনো 12 মাস শ্বাসকষ্ট ভুগে।এ যেন এক কঠিন পরিস্থিতি। সারা বছর তাকে শ্বাসকষ্টের ওষুধ খেতে হয়। কিন্তু এমত অবস্থায় ছোট্ট শিশু প্রিয়াকে,কোথায় রেখে কাজে যাবে, দিশেহারা প্রিয়ার ঠাকুরদা বিষ্ণুপদ সরকার।উনি বলেন আমি ভাবতে পারিনি আমার এরকম একটা পরিস্থিতি তৈরি হবে। এই ছোট্ট শিশুটিকে রেখে কি করে ওর মা নিরুদ্দেশ হয়ে গেল ভাবতেই অবাক লাগছে। বিষ্ণুপদ সরকার বলেন অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি কোথাও পায়নি বাধ্য হয়ে থানায় গিয়ে নিখোঁজ ডাইরি করে এসেছি। উনি আরো বলেন আমার এই ছোট্ট নাতনি প্রিয়া কে, যাতে সরকার একটু দেখে তার ব্যাবস্থা হলে ভাল হয়। কারন আমি অসহায়, আমি নিরুপায়,আমার কোন কিছু নেই,অসুস্থ মানুষ মানুষ আমি। আমি কি করে এই ছোট্ট শিশুটিকে পালন করব ভেবে কুল পাচ্ছিনা। শালকুমার থেকে নাগরিক মঞ্চের সম্পাদক শচীন্দ্রনাথ শর্মা বলেন,অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার। এমত অবস্থায় বাচ্চাটিকে রেখে কি করে তার বাবা মা বাইরে থাকে। শালকুমার ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সম্পাদক কানাইলাল দাস বলেন, আমরা চেষ্টা করব সব সময় ওর পাশে থাকতে। পাশাপাশি, চাইল্ড লাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। যত তাড়াতাড়ি পারি এর একটা সুরাহা করব।