৭৫ মাইক্রোনের নিচে ক্যারি প্যাকেট নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ডালপুরি লুচি পরোটার সাথে গরম ডাল তরকারি এখনো নিশ্চিন্তে প্লাস্টিক প্যাকেটেই
মলয় দে নদীয়া : সরকারি নির্দেশ মেনে ব্যবসায়ীরা ৭৫ মাইক্রোনের নিচে প্লাস্টিক জাত দ্রব্য ব্যবহার করা বন্ধ করে দিতে চাইলেও অনেকেই তা পেরে উঠছেন না। কারণ,তাদের বক্তব্য, ৭৫ মাইক্রোনের ওপরে প্লাস্টিক ক্যারি ব্যাগের জন্য বাড়তি দাম তারা অনেকেই দিতে রাজি নয়। পাশাপাশি বিকল্প কাগজের প্যাকেট বা মাটির পাত্রের উৎপাদন কম থাকার হলে তা কিনতে যা খরচা হচ্ছে,তা দিয়ে জিনিস বিক্রি করে লাভের মুখ দেখা তো দূরের কথা, উল্টে লোকসানের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আবার জিনিস কম দিয়ে ৭৫ মাইক্রোনের উপরে প্লাস্টিক জাত দ্রব্য দিয়ে তার দাম তোলার চেষ্টা করা হলে তাতে ক্রেতা সুরক্ষা বিঘ্নিত হচ্ছে। তাই অনেক ব্যবসায়ীরাই পড়েছেন মহা সমস্যায়। নদীয়ার শান্তিপুরের রেলবাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি সনাতন পাল স্পষ্ট জানিয়েছেন,’ মানুষ বাড়ি থেকে বাজারে গিয়ে কিছু জিনিস কেনার জন্য ব্যাগ নিয়ে যাওয়ার অভ্যাস প্রায় ভুলে গিয়েছেন। বেশিরভাগ ক্রেতাই ব্যাগ নিয়ে আসছেন না। অনেকেই ছোটখাটো কিছু জিনিস কিনলেও তাদের ক্যারিব্যাগ দিতেই হচ্ছে। আমরাও চাই,৭৫ মাইক্রোনের নিচে ক্যারিব্যাগ সহ প্লাস্টিক জাতীয় দ্রব্য বন্ধ হোক। কিন্তু তা বন্ধ করতে গেলে যে সমস্যার মুখে ছোটখাটো ব্যবসায়ীদের পড়তে হচ্ছে, তার সমাধানের কোন পথ দেখা যাচ্ছে না। কারণ,ক্যারিব্যাগ না দিলে ক্রেতা রেগে যাচ্ছেন। তারা চলে যাচ্ছেন অন্য দোকানে। অথচ ৭৫ মাইক্রোনের উপরে ক্যারি ব্যাগ এর জন্য তারা পয়সা দিতেও রাজি হচ্ছেন না। সে ক্ষেত্রে ব্যবসা চালাতে গেলে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।’ সনাতন পালের নিজের মিষ্টির দোকান রয়েছে। সেক্ষেত্রে ৭৫ মাইক্রোনের উপরে প্লাস্টিক ব্যবহার করতে গেলে যে খরচ পড়বে, তা দিয়ে তিনি বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করবেন কী করে, তা নিয়ে পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। সনাতনবাবুর মত খাবারের দোকানদাররা সবথেকে বেশি সমস্যার মধ্যে পড়েছেন। প্লাস্টিক ক্যারি ব্যাগের বিকল্প সামগ্রী যেমন কাগজের ঠোঙা, মাটির পাত্র ব্যবহার করতে গিয়ে তার যা মূল্য পড়ছে,তা দিয়ে তাদের ব্যবসা চালানো হয়ে পড়ছে সমস্যায়। ক্যারিব্যাগ ব্যবসায়ী সুকোমল দেবনাথ অবশ্য মুখে বলছেন তিনি ৭৫ মাইক্রোনের নিচে ক্যারিব্যাগ বিক্রি করা বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে তার বক্তব্য,’ বিকল্প ব্যবস্থা না করে ৭৫ মাইক্রোনের নিচে ক্যারিব্যাগ বন্ধ করে দেওয়া হলে সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়বেন ছোট ব্যবসায়ীরা। এটা স্পষ্ট। তাই বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠী ধারা বিকল্প সামগ্রী তৈরির জন্য পুরসভার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। ব্যবসায়ীরাও চান, ৭৫ মাইক্রোনের নিচে প্লাস্টিক ক্যারি ব্যাগ ব্যবহার বন্ধ হোক। মানুষের অভ্যাসের পরিবর্তন ঘটুক। কিন্তু বিকল্প ভাবনা দরকার।’ সামনে ১ জুলাই থেকে দেশের সর্বত্র নিষিদ্ধ হচ্ছে ৭৫ মাইক্রোনের নিচে প্লাস্টিক ক্যারি ব্যাগ এবং থার্মোকল। ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজ্যের পুরসভা, পঞ্চায়েতে কার্যকারী হয়ে গিয়েছে নিয়ম। বেশ কিছু জায়গায় নিষিদ্ধ ক্যারি প্যাকেট বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে, সেইসঙ্গে করা হচ্ছে আর্থিক জরিমানাও। মুদি দোকান, আনাজ বাজার, মাছ মাংসের দোকান, হোটেল,রেস্টুরেন্ট সর্বত্রই ব্যবসায়ীরা সচেতন হয়েছেন অনেকটাই। তারা ইতিমধ্যেই ৭৫ মাইক্রোনের ওপর ক্যারি প্যাকেট ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। ব্যবহারিক কারণেই হয়তো একমাত্র ব্যতিক্রম পরোটা,ডাল পুরি, লুচির দোকানে তরকারি দেওয়ার ক্ষেত্রে। অথচ গরম তরকারি প্লাস্টিক প্যাকেটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর বলছেন চিকিৎসকরা। অন্যদিকে দোকানিরা জানাচ্ছেন, অত্যাধিক তরল হওয়ার কারণেই ডাল, তরকারি ফয়েল প্যাকেটে দেওয়া বেশ খানিকটা অসুবিধার। লভ্যাংশ এতটাই কম থাকে, তিনটি অথবা চারটি কচুরি ডাল পুরির মূল্য যেখানে দশ- কুড়ি টাকা, সেখানে 5 টাকা দামের ফয়েল প্যাকেট দেওয়াটা কার্যত ঢাকের দায়ে মনসা বিক্রি। এ বিষয়ে পুরসভার বক্তব্য, বাড়ি থেকে পাত্র নেওয়া অভ্যাস করতে হবে আগের মতন। অথবা ফয়েল প্যাকেট কিনতে হবে দোকান থেকে।ক্রেতাদের বাড়তি সুবিধা দিয়ে মন যোগানো নাকি ক্রেতাদের চাহিদায় প্লাস্টিক প্যাকেট রাখতে বাধ্য হচ্ছেন দোকানিরা? প্রশ্নটা অনেকটা, ডিম আগে না মুরগির মত। তবে এর কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি। তবে পরিবেশের কথা ভেবে, দোষারোপ ভুলে সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে।যদিও ইতিমধ্যেই ফুচকার স্টল এবং বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে, এমনকি মিষ্টির দোকানে পর্যন্ত বেশ খানিকটা অসুবিধা করেই বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজে নিয়েছেন তারা। কিন্তু এক্ষেত্রে কত তাড়াতাড়ি প্লাস্টিক মুক্ত হয়, সেটাই এখন দেখার। তবে পুরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন সকলের জন্যই সমান ইতিমধ্যেই আমরা বেশ কয়েকটি দোকানদারকে জরিমানা ধার্য করেছি, পরিবেশের কথা মাথায় রেখে সকল দোকানদারদের একজোট হয়ে মেনে চলতে হবে একই সিদ্ধান্ত। প্রথমদিকে কিছুটা অসুবিধা হলেও পরবর্তীকালে সাধারণ মানুষ অভ্যস্ত হয়ে যাবে।

