মলয় দে নদীয়া :- ভোট-পরবর্তী হিংসার জের এখনো রয়ে গেছে রাজ্যজুড়ে। শাসকদলের তরফ থেকে বারংবার ঘরে ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও এ প্রতিশ্রুতি যেন ভ্রান্ত। এমনটাই বলে মনে করছেন কল্যাণীর 13 নাম্বার ওয়ার্ডের বাসিন্দা টিংকু শীল ও স্বামী প্রবীর শীল। ভোট গণনার পর থেকেই ঐ দম্পতি দুই সন্তানকে নিয়ে ঘরছাড়া। তাদের বাড়ির উপর চড়াও হয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এমনটাই অভিযোগ। অভিযোগের তীর তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এখন ওই দম্পতি তার দুই সন্তানকে নিয়েই বিভিন্ন জায়গায় আতঙ্কের মধ্যেই দিনযাপন করছেন , পারছেন না ঘরে ফিরতে। প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও কোন সদুত্তর মেলেনি প্রশাসনের তরফ থেকে। স্বামী পেশায় অটোরিকশা চালক দিন আনা দিন খাওয়া সংসার। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের জন্য কল্যাণী পৌরসভায় আবেদন করেও বঞ্চিত এই পরিবার বিজেপি করার অপরাধে। এই দম্পতির চোখে মুখে এখন রয়েছে শুধু আতঙ্কে । ভরসা করতে পারছেননা প্রশাসনকেও। ঐ দম্পতি কল্যাণী পৌরসভার 13 নম্বর ওয়ার্ডে পৌরসভার জায়গায় একটি ছোট্ট ঘরে বসবাস করতেন । কিন্তু সেই ক্ষেত্রে পৌরসভা তরফ থেকে উচ্ছেদ নোটিশ জারি করেন।পাশাপাশি আরও পরিবার রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে কিন্তু সেই নটিস পুরসভার তরফ থেকে দেওয়া হয়নি। তাহলে কি নিছক রাজনৈতিক কারণে এই উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হল ওই অসহায় পরিবারটিকে ? এই প্রশ্নটা সর্বদাই চোখের সামনে ভাসছে ওই দম্পতির। দীর্ঘদিন তারা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটালেও সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরা দেখে অনেকটাই আশার আলো দেখছেন। তাই আমাদের কাছে আতঙ্ক ও কষ্টের কথা তুলে ধরলেন। সংবাদমাধ্যমের ভরসায় বাড়ি ফিরলেও বাড়িতে থাকতে পারলেন না আতঙ্কের কারণে। তাই তারা তড়িঘড়ি আবার বাড়ি ছেড়ে চলে গেলেন অন্যত্র। এখন বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় চার সদস্যের ছোট পরিবার টিংকু শীলের। এখনো নিরাপত্তার অভাবে আতঙ্কিত ওই ছোট্ট শীল পরিবারটি । এখন দেখার ওই পরিবারকে ঘরে ফেরানো ও তাদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কি ভূমিকা গ্রহণ করেন রাজ্য সরকার।

