কিছুদিন আগেই ছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস! গাছ লাগানোর হুড়োহুড়ি, কিন্তু গাছ রক্ষায় এগিয়ে আসে কতজন? প্রশ্নটা একেবারে আত্মকেন্দ্রিক! গাছে আগুন ধরিয়ে দেওয়া, গাছের গোড়ায় বিষ দিয়ে গাছ মেরে ফেলার নজির মাঝেমধ্যে উঠে আসে সংবাদমাধ্যমে! বড় বড় বাগান পেটে সাফ হয় প্রতি রাতে। একে অপরকে দোষারোপ করে কাটিয়ে দিচ্ছি আমরা। প্রশাসন চাই নির্দিষ্ট অভিযোগ, সাধারণ মানুষ ঝামেলা ঝঞ্ঝাট এড়াতে চুপ থাকতেই ভালোবাসে, আর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বা বিজ্ঞান কর্মীরা বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি চাপাটি এরই মধ্যে কিছু সুযোগ সন্ধানী মানুষ বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের কাজ।
আজ নদীয়ার শান্তিপুর 24 নম্বর ওয়ার্ডের গুপ্তিপাড়া ফেরি ঘাটে যাওয়ার রাস্তার পাশে চার পাঁচ টি রাস্তার পাশে থাকা বড় সাইজের পিটুলি গাছ পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা। এলাকা সূত্রে জানা যায় গতকাল বিকাল থেকেই কাটা হচ্ছে গাছগুলি। রাস্তার পাশের জমির মালিক উত্তম মাহাতো বেশ কিছু বছর আগে, স্বামীজি নেতাজি আইডিয়াল ইয়ুথ সোসাইটি সঙ্গে গাছ কাটা বা পরিবেশ সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে আন্দোলনে সরব হতেন। কিন্তু আজ তার ইচ্ছাতেই পি ডব্লিউ ডি র গাছ কাটা সম্পূর্ণ হলো । তিনি চাষের কাজে যাওয়ার কারণে, তার প্রতিক্রিয়া পাইনি তবে তার স্ত্রী জানান বাড়ির সামনে জমির এবং গাছের অধিকার আমাদের! বাড়ির সদস্য সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে তাই ওই জমিতে বাড়ি করার প্রয়োজনে চারটি গাছ কাটা হয়েছে এতে অন্যায় কিছু নয়! এলাকার অধিবাসী জানালেন, এটা সংবাদমাধ্যমের একটু বাড়াবাড়ি হচ্ছে! বিভিন্ন বড় বড় বাগান, সরকারি তত্ত্বাবধানে থাকা লক্ষ্য লক্ষ্য টাকা মূল্যের ফরেস্টের গাছ, রাতের অন্ধকারে চুরি হয়ে যাচ্ছে! সেখানে সামান্য বিশ পঞ্চাশ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া গাছ নিয়ে এত মাথাব্যথা কেন? ওই এলাকারই একাংশ ফোনে প্রতিবাদ জানালেও প্রকাশ্যে আসতে রাজি হননি প্রাণ ভয়ে। তবে ঘটনার বেশ কিছুটা কালবিলম্ব করে , শান্তিপুর থানার পুলিশ এবং নদিয়া মুর্শিদাবাদ রেঞ্জের বনকর্মীরা আজ সকাল 11 টা নাগাদ এসে জানিয়ে যান আগামী কাল রেঞ্জার সাহেব এসে বিষয়টি খতিয়ে দেখবে ততক্ষণ এর জন্য কাটা গাছ বিক্রি করা যাবে না।

