জেলার গণ্ডি পেরিয়ে কৃষ্ণনগরের ওয়েবস্টার এখন পূর্ব মেদিনীপুরেও চালু করল সার্ভিস

“আমাকে দু প্যাকেট মুড়ি কম দিয়ে দু প্যাকেট স্যানিটারি ন্যাপকিন বেশি করে দেওয়া যাবে?” ওয়েবস্টার সার্ভিসেস সোসাইটির উদ্যোগে নেওয়া মেডিক্যাল ক্যাম্পের সহায়তা পেয়ে এমনই প্রতিক্রিয়া জানালেন রামনগর ব্লক-I এর এক স্থানীয় বাসিন্দা। গত ৩রা জুন ওয়েবস্টারের সদস্যরা মাস্ক, স্যানিটাইজার, স্যানিটারি ন্যাপকিন, জিওলীন, সাবান, বাচ্চাদের পোশাক, মেডিসিন ও প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী যেমন চিঁড়ে, মুড়ি, ছাতু, বিস্কুট নিয়ে রওনা দেন রামনগর ব্লক-I, ক্ষিরপাল ও চাঁদপুর গ্রামের উদ্দেশ্যে। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী ইয়াস পরবর্তী পরিস্থিতিতে এসব এলাকার মানুষজনের মধ্যে অনেক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা অনেক বেশি বেড়েছে। তাই স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগীতায় ৪ঠা জুন থেকে ৬ই জুন পর্যন্ত তাদের নিজস্ব ডাক্তারদের টিমকে নিয়ে মেডিক্যাল ক্যাম্প চলার সাথে চলে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের কাজ। এমনকি ডাক্তাররা ছোটখাটো সার্জারি ও সেখানে করেন। এভাবে প্রায় ৫০০ অধিক পরিবারকে তারা ত্রান দিতে সক্ষম হয়েছে।
কোরোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে গিয়ে যখন গোটা দেশ অক্সিজেন আর হসপিটাল বেডের জন্য হিমশিম খাচ্ছে তখন বাংলায় গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে ঘূর্ণিঝড় “ইয়াস”। গতবছর লকডাউনের পর থেকে ওয়েবস্টারের সদস্যরা কোরোনা মোকাবিলায় নানান উদ্যোগ নিয়েছেন। গত ৪৫ দিন ধরে নদিয়ার কৃষ্ণনগর অঞ্চলে তারা “বাংলার প্রথম অক্সিজেন ভ্যান” চালু করে দিনরাত কোরোনা পেসেন্টদের বাড়ি গিয়ে অক্সিজেন সরবরাহ করে চলেছে। এবারে “ইয়াস” বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত এলাকা গুলি চিহ্নিত করে স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে। ওয়েবস্টারের অন্যতম প্রধান সদস্য অনুপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, “এখানে এসে যা দেখলাম এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে জানলাম তাতে করে গোটা পূর্ব মেদিনীপুর ইয়াসির দাপটে বিদ্ধস্ত। চাঁদপুর গ্রামে প্রায় শতাধিক বাড়ি ছিল যার মধ্যে গোটা দশেক বাড়ি বাদে পুরোটাই ভেঙে ধূলিস্যাত হয়ে গেছে। এই ঘাটতি মেটানো অনেকটাই কঠিন। আমরা অবশ্যই ভবিষ্যতে এই এলাকাগুলিতে ত্রাণ নিয়ে আসার চেষ্টা করবো।”