অতিমারির কালো মেঘ সরেছে মাথার উপর থেকে, প্রয়োজন ফুরিয়েছে বলে সেদিনের কোভিদ যোদ্ধারা কি ঘুরবেন সরকারি দুয়ারে দুয়ারে??

অতিমারির কালো মেঘ সরেছে মাথার উপর থেকে, প্রয়োজন ফুরিয়েছে বলে সেদিনের কোভিদ যোদ্ধারা কি ঘুরবেন সরকারি দুয়ারে দুয়ারে??

মলয় দে নদীয়া:- ঠিক যেমন প্রখর রৌদ্রে দাঁড়িয়ে শীতের হাড় কাঁপুনি ঠান্ডা অনুভব করা যায় না, তেমনি অনেক কিছু কঠিন পরিস্থিতির পার হলে মনে থাকেনা পারনির কথা।
ফিরে চলুন দুই হাজার কুড়ি সাল, করণা কাটায় বিদ্ধ গোটা পৃথিবী। পুলিশ প্রশাসন সাংবাদিক স্বাস্থ্যকর্মী বাদে রাস্তায় নেই কেউ। ধীরে ধীরে আক্রান্ত হচ্ছেন ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কারও, চোখের সামনে আগুন দেখে ঝাঁপ দেবে? অথচ বিপুল পরিমাণে স্বাস্থ্যকর্মীর প্রয়োজন। সরকারের কাতর প্রার্থনা ছিলো, যুবসমাজকে এগিয়ে এসে করোনার ভয়াল গ্রাস থেকে মনুষ্য সমাজকে বাঁচানোর। কিন্তু সে সময় জীবিকার থেকেও জীবনের মূল্য যে অনেক বেশি ছিলো, তার প্রমাণ এখন মিলছে। দুই হাজার কুড়ি সালে শান্তিপুর ব্লকে বিভিন্ন এলাকায় আশা কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত 10 টি আসনের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ার পর আবেদন জমা পড়েছে মাত্র সাতটি। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে পরিস্থিতি কতটা ভয়ানক ছিলো।
কিন্তু সে সময়ে বেশ কিছু যুবক যুবতী, মূলত সমাজ সেবায় ব্রতী হয়ে এগিয়ে এসেছিলেন কোভিদ আক্রান্তদের সেবায়। অত্যন্ত কাছ থেকে তাদের পরিষেবা দিতে গিয়ে কখনো আক্রান্ত হয়েছেন তারা নিজেরাও, কিন্তু হাল ছাড়েননি কখনো। আজ অতিমারি পরিস্থিতি কাটিয়ে ধীরে ধীরে
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে, উঠে গেছে সমস্ত সেফ জোন, সাময়িক চিকিৎসা কেন্দ্র। কিন্তু দাড়া দু চোখে স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলো মানুষের সেবা করার! তাদের প্রয়োজন ফুরিয়েছে, তবে পুরস্কার বলতে কি শুধুমাত্র একটি শংসাপত্র? স্থানীয় বিডিও এসডিও সমস্ত সরকারি দুয়ারে দুয়ারে তারা আবেদন জানিয়েছেন, সেবা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য। লাভ হয়নি কোনো, আজ বাধ্য হয়েই জেলার সর্বোচ্চ প্রশাসন মহকুমা শাসকের কাছে আবেদন জমা দিলেন তারা। শুধু শান্তিপুর ব্লকের দেবদূত ,সৌরভ ,অনুরণন, বর্ণালী সুচিত্রারা নয়, রাজ্যের বিভিন্ন ব্লক শহরে নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে করণা লড়াইয়ে শামিল হয়েছিলো এই রকম সহস্রাধিক যুবক-যুবতী। যাদের নিজেদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়া সম্ভব হয়নি এখনো, তাই আন্দোলন জোরালো নয় তবে, হৃদয় দিয়ে অনুভব করার বিষয়।
এ প্রসঙ্গে শান্তিপুর ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডক্টর পূজা মৈত্র জানান,
“সেফ হোমে যারা কাজ করেছেন তাদের কোভিডের দ্বিতীয় ওয়েভের সময়কার অবদানের জন্য আমরা ধন্যবাদ জানাই শান্তিপুর ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফ থেকে।তাদের কাজের অভিজ্ঞতার প্রমাণপত্রও শান্তিপুর ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের করণ থেকে তাদের ইতিমধ্যেই দিয়ে দেওয়া হয়েছে,যেটা তাদের ভবিষ্যতে সরকারের স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্মী নিয়োগের পরীক্ষায় কাজে লাগতে পারে বলে আমরা আশাবাদী। ভবিষ্যতে কোভিডের আরও কোন ঢেউ এলে অবশ্যই সেফ হোম আবার খুলতে পারে এবং সেখানে তাদেরকেই নেওয়ার ব্যাপারে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যদিও তারা অতিমারী পরিস্থিতি ও সেফ হোমের এস্টাবলিশমেন্ট অস্থায়ী জেনেই কাজে ঢুকেছিলেন এবং বর্তমানে সরকারি আদেশ অনুসারে সেফ হোমগুলি বন্ধ করা হয়েছে তাই এই মুহুর্তে তাদের জন্য কিছু করার সুযোগ নেই,তবুও তাদের আবেদনপত্র আমরা শান্তিপুর সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের কাছে পাঠিয়েছি যদি তাদের কোন কাজের ব্যবস্থা করা যায়।”
মহকুমা শাসকের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক দিক তারা লক্ষ্য করেছেন বলে জানিয়েছেন আমাদের।
কোভিদ যোদ্ধারা জানিয়েছেন ইতিমধ্যে বেশ কিছু সরকারি চিকিৎসা ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ হয়েছে কিন্তু তাদের কথা মনে রাখা হয়নি।
তবে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী ঘোষিত রাজ্যব্যাপী স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের 11521 জনের মধ্যে তারাও থাকবেন এই প্রার্থনাই করেছেন কোভিদ যোদ্ধারা। আমরাও সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে তাদের মনস্কামনা পূর্ণ করার শুভকামনা জানাই।