গাছের আকৃতি লম্বা হওয়ার কারণে নয়, ফলনের জন্যই হাতের নাগালের বাইরে ডাব
মলয় দে নদীয়া:- একদিকে মাঙ্গলিক অন্যদিকে পথ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় ডাব। সদ্যসমাপ্ত হওয়া গোটা রমজান মাসে ডাবের চাহিদা ছিল তুঙ্গে। সারাদিন নির্জলা উপোস থাকার পর ডিহাইড্রেশন না হওয়ার কারণে ডাবের জল অত্যন্ত প্রয়োজন রোজাদারদের। অন্য দিকে হিন্দু ধর্মের প্রায় প্রতিটি পুজোতেই ঘটের উপর শিষযুক্ত ডাব মাঙ্গলিক ,উপসের পর একইভাবে প্রয়োজন ডাবের জল। ডাব গাছের মূলরোম দ্বারা শোষিত ভৌম জল খনিজ লবণ, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম সহ বেশ কয়েকটি উপাদান পরিশ্রুত হয়ে পৌঁছায় ডাবের মধ্যে। সাইটোকাইনিন হরমোন ভিটামিন সি থাকার কারণে রিহাইড্রেশন, ব্লাড প্রেসার, হার্টের সমস্যা, মজবুত হাড়, ত্বক পরিচর্যায় ধন্বন্তরি। তবে ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকার কারণে স্থূলকায় ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে, রক্তে শর্করা থাকলে এবং কিডনির সমস্যা থাকলে এড়িয়ে যেতে হবে ডাব। সার্বিকভাবে রোগ প্রতিষেধক হিসাবে ডাবের জুড়ি মেলা ভার।
এত গুণাবলী থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছেছে ডাব। এর কারণ হিসেবে অবশ্য পরিবেশবিদরা বলছেন মোবাইলের রেডিয়েশন এর ফলে বেশ কিছু প্রজাতির পাখি জীবজন্তুর মানুষের মতোই প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন গাছের যার মধ্যে ডাব গাছ অন্যতম। পশুপাখির আদমশুমারি থাকলেও অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশের গাছের আদমশুমারির বিষয় গুরুত্ব দেয় না সরকার, তার ফলে নতুন করে সেই ধরনের গাছ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নেওয়া হয় না কোনো পরিকল্পনা। মাত্র কয়েক বছর আগের কুড়ি পঁচিশ টাকার ডাবের দাম সাম্প্রতিক কালে পৌঁছেছে 50 টাকায়। অথচ আম জাম কাঁঠাল লিচু পেয়ারা শসা কোনো ফলের ই এত দাম বৃদ্ধি হয়নি। বরং বেশ কিছু বিদেশি ফল এখন সবাই মেলে সাধারণ বাজারেও।
ডাব বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, গাছের নিচ থেকে দাম করে কেনার পর বিক্রি করার সময় অধিকাংশ ডাবে থাকছে না জল, ফলে ক্রেতাদের সঙ্গে বাকবিতন্ডা লেগেই থাকে। অন্যদিকে লোকসান হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই, তাই ডাব বিক্রেতার সংখ্যাও কমছে। ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে, আম বেল লেবুর শরবত।
ক্রেতারা জানাচ্ছেন, ডাবের প্রয়োজন তো আর অন্য কিছু মেটেনা, তাই বাধ্য হয়েই চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। আলু পিয়াজ এর মত বাজারদর নিয়ন্ত্রণের সরকারি হস্তক্ষেপ দরকার এ ক্ষেত্রেও। সরকারি তত্ত্বাবধানে অন্যান্য ফলের বাগানের মত কৃষকদের আগ্রহী করে তোলা দরকার ডাব চাষেও।

