লটারিতে কোটিপতি হয়ে ঘুমাতে পারলেন না বাড়িতে !সারারাত দুশ্চিন্তায়, থানার সহযোগিতা না নিয়ে নাকি অন্যত্র আত্মগোপন, জানালেন না টিকিট বিক্রেতা কেও

লটারিতে কোটিপতি হয়ে ঘুমাতে পারলেন না বাড়িতে !সারারাত দুশ্চিন্তায়, থানার সহযোগিতা না নিয়ে নাকি অন্যত্র আত্মগোপন, জানালেন না টিকিট বিক্রেতা কেও

মলয় দে নদীয়া:-
আগে আলোচনা হতো লাখপতিকে নিয়ে আর এখন কোটিপতি হলে তবেই পাড়ার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বাজার হাট গুঞ্জনের ঝড় ওঠে।

ঠিক তেমনই এক ঘটনা ঘটলো নদিয়া শান্তিপুরের বাইগাছি বিশ্বাস পাড়ায়। পেশায় দিনমজুরের কাজ করা শংকর দে র লটারিতে বাধলো এক কোটি টাকা! মাত্র ৬০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে ছিলেন তিনি নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করতে আর তাতেই বর্তমানে তিনি কোটি টাকার মালিক! যদিও জানা গিয়েছে লটারি কাটা তার নেশা নয় তবে নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করার জন্য মাঝেমধ্যেই টিকিট কেটে থাকেন তিনি। যদিও অনেক আগে এ ধরনের কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি। আর সেই ভাগ্যের পরীক্ষাতে সফল হলেও দুশ্চিন্তায় ঘুম উড়েছে পরিবার আর তাইতো কাউকে কিছু না বলেই টিকিটের ফলাফল জেনে পরিবারের সকলে একমাত্র বয়স্ক মা ব্যথিত সকলেই উধাও! এ ধরনের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ টিকিট প্রাপক দারস্থ হয় থানার। যদিও অনেকে বলছেন তিনি থানায় নয় আত্মগোপন করেছিলেন অন্য কোথাও আর সেক্ষেত্রে যদি কোন সমস্যা তৈরি হতো তাহলে দায় নিতো কে? কারণ এক্ষেত্রে টিকিট যার টাকা তার তাই নিকট আত্মীয় আশ্রয় দিতে গিয়ে যদি বিশ্বাসঘাতকতা করে তাহলেও বড়সড়ো বিপদ ঘনিয়ে আসতে পারত গতকাল রাতে।
তবে মা আরতী দে অবশ্য বাড়িতে ছিলেন একাই তবে ছেলে বৌমা নাতি- নাতনিদের দুশ্চিন্তায় ঘুম হয়নি তবে তিনি জানতেন থানার আশ্রয় নিয়েছে দুই ছেলের পরিবার।
তবে অতীতের দুঃখের স্মৃতি মুছে তিনি জানান গতকাল সন্ধ্যেবেলায় তিনি জানতে পারেন দুদিন আগে যে লটারির টিকিট তার ছেলে কেটেছিলেন তার ফলাফল বেরিয়েছে এবং তাতেই সে জিতেছে নগদ এক কোটি টাকা পুরস্কার! সেই মুহূর্তে খবরটা কানে আসতেই বিশ্বাস করতে পারেননি তিনি ।

শান্তিপুর স্টেশন রোড সংলগ্ন ২০ বছরের লটারির দোকান অশোক দাসের দোকান থেকে লটারি কেনার কারণে তার কাছ থেকে প্রথম নিশ্চিত হয়েছিল ছেলে। তবে আজ থেকে ছয় বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার সময় অত্যন্ত দারিদ্রতার মধ্যে এক ছেলেকে রাজ্যের বাইরে যেতে হয় কাজে অন্য দুই ছেলে ছোটখাটো কাজ করে কোনরকমে সংসার চালায় তবে ছেলেরা প্রত্যেকেই মায়ের প্রতি যত্নশীল বলেই জানিয়েছেন তিনি। এমনকি সারারাত থানায় কিংবা অন্যত্র কাটিয়ে আজ সকালেও একবার বাড়িতে এসে টাকা তোলার জন্য মাকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। তবে আরতি দেবীর ইচ্ছা ভগবান যখন মুখ তুলে চেয়েছে তাই ছেলে র এই অপ্রত্যাশিত অর্থ র একটা অংশ খরচ হোক দুস্থ মেধাবী ছাত্র কিংবা শারীরিক অসুস্থতায় রোগী এবং তাদের মতন প্রান্তিক পরিবারের কাজে।
তবে স্থানীয় সূত্রে অনেকেরই আশঙ্কা হঠাৎ প্রাপ্তি অর্থে অনেকেই নিজেকে ধরে রাখতে পারেন না বন্ধুবান্ধব বুদ্ধি দেওয়ার লোক এতটাই বৃদ্ধি হয়ে যায় যে সাধারণ বোধ বুদ্ধি ও হারিয়ে ফেলে অনেকে তবুও সু বুদ্ধি সহ নিজেরা এবং সমাজকে ভালো রাখলেই ভালো।

তবে লটারির টিকিট বিক্রেতা অশোক দাস জানান, গতকাল সন্ধ্যায় লটারি কোম্পানি থেকে তাকে ফোন করে বলা হয় তার দোকানের টিকিট নাম্বার এই বেধেছে এক কোটি টাকা। এর আগেও একবার তার দোকানের নম্বরে বেশ কিছু টাকা বাঁধে তবে সেটি ছিল অবিকৃত টিকিট অর্থাৎ সেই টিকিটের টাকা নিয়ম মত কেউই পায়নি। এবারও তিনি ভেবেছিলেন হয়তো সেরকমই কিছু একটা হবে, কিন্তু চেক করতে গিয়ে তিনি দেখেন পুরষ্কার বাধা সেই টিকিট তার কাছে নেই অর্থাৎ সেটি বিক্রি হয়ে গিয়েছে। এরপরই তিনি জানতে পারেন ওই দিনমজুরের বেঁধেছে এক কোটি টাকা। তবে তিনি কোনভাবেই যোগাযোগ করেননি এজেন্টের সাথে।

তিনি আরও বলেন, এমনিতে ওনার লটারি কাটার অভ্যাস নেই। মাঝেমধ্যে ভাগ্য পরীক্ষার জন্য কাটেন।এবারেও ৬০ টাকার রাজ্য সরকারের ডিয়ার লটারি কেটেছিলেন আর তাতেই মেলে এই পুরস্কার। নিজের দোকান থেকে প্রথম পুরস্কার কোটি টাকা জেতার পর স্বাভাবিকভাবেই তিনি আশাবাদী আগের তুলনায় এবার লটারি টিকিট বিক্রি কিছুটা হলেও বাড়বে তার দোকানে আর তার জন্য আগামীকাল থেকেই নিজের দোকান সাজিয়ে তুলবেন তিনি বলে জানালেন আমাদেরকে। তবে তিনিও সমাজকে বার্তা দিয়েছেন ভাগ্য পরীক্ষা করা যেতেই পারে তবে দারিদ্র্যতা কে উপেক্ষা করে সর্বনাশা টিকিটের নেশা কখনোই নয়।

সূত্রের খবর অনুযায়ী জানা গেছে তিনি এবং তার ভাই আজ সকালে শান্তিপুরের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে গিয়ে নিজেরাই নিজেদের কাজ মিটিয়েছে।