মালদহ- লিচুর জন্য বিখ্যাত মালদহের কালিয়াচক। এখানকার লিচু গোটা রাজ্যের বাজারে সুনাম কুড়িয়েছে। তীব্র গরমে এই রসালো ফল সকলের প্রিয়। অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাগানে পাকতে শুরু করেছে লিচু। কালিয়াচকের অধিকাংশ বাগানেই লিচু লাল হতে শুরু করেছে।তবে এখন গুটি লিচু পাকতে শুরু করেছে। এই প্রজাতির লিচু আকারে ছোট হয়, তবে মিষ্টি। আকারে ছোট এই লিচু বাজারে মরশুমের প্রথমে আসায় চাহিদা ব্যাপক থাকে। গুটি লিচুর পাকতে শুরু করার ১৫-২০ দিন পর থেকেই বোম্বাই প্রজাতির লিচু পাকতে শুরু করে।এখন বাগানে বোম্বাই লিচু কাঁচা অবস্থায় রয়েছে। ইতিমধ্যে কলকাতা সহ রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তের ব্যাবসায়ীরা লিচু কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করে স্থানীয় ব্যবসায়ী থেকে লিচু চাষীদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছে। বর্তমানে পাইকারী ১টাকা পিস হিসাবে বাগান থেকে লিচু বিক্রি হচ্ছে।খোলা বাজারে লিচু কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে লিচু খোলা বাজারে। বাজারে লিচু বেশি পরিমানে নামলেই দাম কমতে শুরু করবে।মালদহ জেলা উদ্যানপালন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদা জেলার কালিয়াচক ১ ২ ও ৩ নম্বর ব্লকে সবথেকে বেশি লিচু বাগান রয়েছে। এবার ফলনো আশানুরূপ হয়েছে। এছাড়াও জেলার মানিকচক ইংরেজবাজার, হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ও ২, ও রতুয়া ১ নম্বর ব্লকের লিচু চাষ হয়। জেলার অন্যান্য ব্লগগুলোতেও লিচু বাগান রয়েছে তবে তা খুবই কম। জেলায় মোট ১৫ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে। গত বছর জেলায় লিচুর ফলন হয়েছিল ১৪ হাজার ২০০ মেট্রিক টন। কালিয়াচক ১ নম্বর ব্লকের সবথেকে বেশি লিচুর বাগান রয়েছে। এই ব্লকে মোট ৬৬২ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়। কালিয়াচক ৩ নম্বর ২৬০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়। এছাড়াও জেলার অন্যান্য ব্লগগুলিতে লিচুর বাগান রয়েছে। উদ্যানপালন দফতরের কর্তারা জানান এই বছর লিচুর ফলন গতবছরের রেকর্ড ছড়াবে। করোনার জন্য মাঝে দুই বছর লিচুর বাজারে ভাটা পড়েছিল। তেমন ভাবে লিচু বাইরের বাজারে পাঠানো সম্ভব হয়নি। লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছিল ব্যাবসায়ীদের। এই বছর এখন পর্যন্ত সমস্ত কিছু ঠিক রয়েছে। কালিয়াচকের বোম্বাই প্রজাতির লিচুর চাহিদা সব থেকে বেশি। এখনো বোম্বাই লিচু পাকতে প্রায় ১৫ দিন থেকে ৩০ দিন সময় লাগবে।তবে এখন থেকেই লাভের আশা দেখছেন লিচুচাষী থেকে ব্যাবসায়িরা।

