চোখ ধাঁধানো আলোক সজ্জায় সেজে উঠেছে চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো

নিজস্ব প্রতিবেদন, মৌমিতা দেবনাথ:

চোখ ধাঁধানো আলোক সজ্জায় সেজে উঠেছে চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো।চন্দননগর যে নামটা শুনলেই এক লহমায় সকলের চোখের সামনে যা ভেসে ওঠে তা হল জগদ্ধাত্রী পুজো। আর এই মুহূর্তে শুরু হয়ে গেছে সেখানে জগদ্ধাত্রী পুজোর উৎসব। বরাবরই চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো প্রসিদ্ধ তার চোখ ধাঁধানো আলোক সজ্জার জন্য। আজ থেকে প্রায় সাড়ে ৩০০ বছর আগে কৃষ্ণনগরের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের উদ্যোগে চন্দননগরে শুরু হয়েছিল জগদ্ধাত্রী পুজো। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ই প্রথম তখনকার পর্তুগিজের দখলে চলে যাওয়া প্রাচীন এই শহরে প্রথম চালু করেছিলেন জগদ্ধাত্রী পূজার উৎসব। আর তখন থেকেই প্রাচীন এই উৎসবে এতোটুকুও ভাটা পড়েনি। রাজ্য তথা দেশ-বিদেশ থেকে বহু পর্যটক এই সময় চন্দননগরে হাজির হয় চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জার কাজ দেখতে। প্রতিটি মন্ডপে আলোর কাজ দেখলে মন ভরে যাবে আপনারও। আলো দিয়েও যে এত সুন্দর চোখ ধাঁধানো মন্ডপ তৈরি করা যায় তা চোখে না দেখলে অবিশ্বাস্য মনে হবে। প্রতিটি মণ্ডপের দেওয়ালে দেওয়ালে সুক্ষ সুক্ষ আলোর বিন্দু দিয়ে এত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় দুর্গাপূজা কালী পূজার সময় চন্দননগর থেকে আলোক সজ্জার জন্য শিল্পীদের ভাড়া করে নিয়ে যাওয়া হয়। এমন সুন্দর নিখুঁত হাতের কাজ যে শিল্পীদের তাদের তো কদর থাকবেই দেশজুড়ে। কলকাতার দুর্গাপুজো এবং বারাসাতের কালীপুজো যেন ফিকে হয়ে যায় চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর কাছে। চন্দননগরের সেই বিখ্যাত মণ্ডপ গুলোর আলোকসজ্জার কিছু নিদর্শন আজ আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। আলো দিয়ে তৈরি করা হয়েছে গোলাপ ফুল, সামান্য কাপড় দিয়ে বানানো প্যান্ডেল ও আলোর মালায় এভাবে সেজে উঠেছে যাতে কোন অংশে দেখে মনে হচ্ছে না যে মন্ডপটি কাপড় দিয়ে তৈরি। তাইতো আজও চন্দননগর জগদ্ধাত্রী পুজোয় সেরা। নিজেদের প্রাচীণত্ব এবং ঐতিহ্যকে বজায় রেখেছে বলেই হয়তো চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো আজ বিশ্বসেরা।