মলয় দে নদীয়া:- কলকাতা কর্পোরেশন নির্বাচন ফল প্রকাশিত হওয়ার পরই 106 টি পৌর নির্বাচন এবং পাঁচটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে সরকারিভাবে কোনো নির্দেশিকা প্রকাশিত না হলেও, হাইকোর্টের জানানো সম্ভাব্য দিনক্ষণ সামনে আসতেই বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ভোট উৎসবের আমেজ। শাসক দলের পক্ষ থেকে মনোনীত হতে চান নির্বাচিত ভাবে, আবার বিরোধীরাও পৌরসভা গুলিকে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে প্রস্তুত নির্বাচনী লড়াইয়ে। যদিও করোনা পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি বাড়তি চিন্তা জন্মেছে ওমিক্রণ নিয়ে।
নদীয়ার চাকদা, রানাঘাট, শান্তিপুর ,নবদ্বীপ, তাহেরপুর, কল্যাণী, গয়েশপুর ,হরিণঘাটা বীরনগর এবং কৃষ্ণনগর এই 10 টি পৌরসভায় আগামী 27 শে ফেব্রুয়ারি তারিখ হতে চলেছে পৌর নির্বাচন। আর একথা গতকাল বিকেলে প্রকাশ্যে আসতেই, শান্তিপুর পৌরসভার প্রশাসক সুব্রত ঘোষ মিউনিসিপালিটি অফিস থেকে বাড়ি ফিরেই পড়ার দলীয় কর্মী সমর্থকদের সাথে বেরিয়ে পড়লেন চুনের বালতি রংয়ের কৌটো হাতে দেওয়াল দখল করতে। প্রথমেই বিনয়ী হয়ে দেওয়াল মালিকের অনুমতি নেওয়া তারপর মই বেয়ে তরতর করে উঠেন, উঁচু দেয়াল গুলিতে সবুজ এবং নীল কালিতে ওয়ার্ডে এখনো পর্যন্ত অপ্রকাশিত তৃণমূল সৈনিকের লড়াইয়ের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে। এ প্রসঙ্গে তাকে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, টিকিট তো সকলে পাবে না, তবে যেই পাক লড়াইটা প্রত্যেকের, মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের, দলীয় নেত্রীর প্রতি আনুগত্যের। বিভিন্ন বিষয়ে সকাল আটটা থেকে রাত আটটা ব্যস্ততার মধ্যে সময় কাটে। তাই দলীয় কর্মী সমর্থকদের অনুপ্রেরণা যোগাতে আজই বেরিয়ে পড়লাম আবেগে। প্রসাশক হওয়ার আগেও এভাবেই কর্মীদের সাথে মিশে কাজ করতাম সেটা ভুলে গেলে চলবে না, কারণ দল দায়িত্ব দিয়েছে প্রশাসকের।
যদিও তৃণমূল শহর-সভাপতি বৃন্দাবন প্রামাণিক জানান দলগতভাবে গোটা শহর কেন্দ্রিক 24 টা ওয়ার্ডের বুথ স্তরের নেতৃত্বদেন নিয়ে বসে একই সাথে দেওয়াল দখলের কাজ শুরু করবেন শীঘ্রই। তিনি আরো বলেন, দলীয় নেত্রী কে দেখে প্রতিটি কোন না কোনভাবে সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্ত নাগরিক তৃণমূল প্রতিনিধিকে জেতানোর জন্য প্রস্তুত। গত বিধানসভা উপ নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী ব্রজকিশোর গোস্বামী রেকর্ড ভোটে জয়লাভ তার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। বৃহৎ দলে অনেক সক্রিয় কর্মী লড়াইয়ে প্রস্তুত অথচ টিকিট পাবেন প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন, অন্যান্য কর্মীদের মান অভিমান কি হবে এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন কলকাতা কর্পোরেশনের তিন নির্দল প্রার্থীকে দেখে সে শিক্ষা নেওয়া উচিত।
পৌরপতি হিসেবে 6 বার পরপর নির্বাচিত হওয়া দীর্ঘদিনের পোড়-খাওয়া রাজনীতিবিদদের মৃত্যুর পর থেকে শান্তিপুরের তৃণমূল দলের রাজনৈতিক অভিভাবকের অভাব বোধ করেছিলো। ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল সালাম কারিকর, কুমারেশ চক্রবর্তী, সহ বেশ কয়েকজন প্রবীণ ডানপন্থী নেতৃত্তের মৃত্যু হওয়ার পর, বিধায়ক পৌর প্রশাসক সহকারি প্রশাসক এবং দলীয় সভাপতি প্রত্যেকেই প্রায় নতুন তাদের নিজ নিজ পদে। যদিও গত বিধানসভা উপ নির্বাচনে কৃষ্ণনগরের সংসদ মহুয়া মৈত্র মতন হেভিওয়েট নেতৃত্ব কে দায়িত্ব দেওয়ার ফলে অনেকটাই মনোমালিন্য দূর হয়েছিল কর্মীদের অন্দরমহলে। এবার পৌরসভায় অবশ্যম্ভাবী গোষ্ঠী কোন্দল ঠেকাতে কোন থেরাপি কাজে লাগায় দল তা দেখতেই অধীর আগ্রহে রাজনৈতিক ওয়াকিবহল মহল।

