মলয় দে নদীয়া:- নদীয়ার রাস মানেই নবদ্বীপ শান্তিপুর নয়! বগুলার গাজনায় গেলে বুঝতে পারবেন পরিষ্কার। আজ থেকে 29 বছর আগে এখানে প্রথম শুরু হয় রাস উৎসব, সেসময় লোকনাথ সংঘ এই আয়োজন করে থাকলেও পরবর্তীতে আরো চারটি ক্লাব তাদের নিজেদের এলাকায় রাস করে থাকেন তবে, সপ্তাহ পর বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কর্মসূচী তারা একে অপরের সাথে আলোচনা করেই করেন বলে জানালেন উৎসব কমিটির সম্পাদক শিব শেখর গড়। 29 বছর ধরেই সভাপতি হিসেবে দায়িত্বভার সামলানো অচিন্ত্য কুমার সরকার জানান, রাস উৎসব উপলক্ষে চলে মেলা। বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকা এবং দৃষ্টিহীন বা অন্যান্য বিশেষভাবে সক্ষমদের সম্মান জ্ঞাপন সহযোগিতা এবং তাদের কৃতিত্ব তুলে ধরা হয় শেষ দিনে। সুদূর মেদিনীপুর থেকে নজরুল কালচারাল ট্র্যুপের 22 জন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন জিমনাস্টিক কৌতুক এবং অর্কেস্ট্রা বাজনা সহ গানের দল এসেছে যাদের বিচিত্রা অনুষ্ঠান দেখে এলাকার মানুষ অত্যন্ত আনন্দিত।
আগত নজরুল
কালচারাল ট্রুপের কর্ণধার শ্রীকান্ত দে বলেন, নিজের চোখের সমস্যা থাকার কারণে, অত্যন্ত অভাবী পরিবারের বিশেষভাবে সক্ষম ছেলে মেয়েদের নিয়ে কঠিন অধ্যবসায় এবং অনুশীলনের মাধ্যমে দু’বেলা দু’মুঠো খাবার ব্যবস্থা করার অক্লান্ত পরিশ্রম করছি, রাজ্যের প্রায় প্রত্যেকটি জেলা অনুষ্ঠান করতে পৌঁছেছি। সংস্কৃতি চর্চার জন্য সরকারি তত্ত্বাবধানে প্রচার পেলে আরো অনেক কিছু করার স্বপ্ন আছে। তবে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে, একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষভাবে সক্ষম দের কৃতিত্ব তুলে ধরা যায় ঠিক তেমনি, অনুষ্ঠান দেখতে আসা বিশেষভাবে সক্ষম দের জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা কাটিয়ে আত্মবিশ্বাস জন্মায় নতুন করে বাঁচার ,কিছু করে দেখানোর।

