মলয় দে নদীয়া :-এমনই এক শরৎকাল ! মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীর অবিভক্ত বাংলাদেশের যশোর জেলার মহেশপুরের জমিদারের আনুগত্যে খুশি হয়ে রায়চৌধুরী উপাধি দিলেন । উপাধি লাভের আনন্দ সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিতে মহেশপুরের জমিদার,বড়সরকার আয়োজন করলেন দ্বিভুজা দুর্গা পূজোর । তিন দিন ধরে চললো মিষ্টি মিঠাই বিতরন ।আলো আর আতসবাজির রোশনাইয়ে ভেসে গেলো মহেশপুর । চারদিকে ধন্য ধন্য রব । সেই শুরু ।তারপর সব ইতিহাস ।নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জের দেবী দশভূজা হয়েও দ্বিভূজা । আসলে বাইরে থেকে দেখা যায় শুধু মাত্র দুটি হাত, অন্য আটটি হাত আঙুলের মতো চুলের আড়ালে ঢাকা । তাই নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জের পাবাখালী গ্রামে রায়চৌধুরী বাড়ির দূর্গা এখানে দ্বিভূজা নামে পরিচিত । ওপার বাংলা ও এপার বাংলা মিলিয়ে ধারাবাহিক ভাবে ৩২০ বছর ধরে চলে আসছে এই পুজো । এবাবও রায়চৌধুরী বাড়িতে পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে । পূর্ব পাকিস্তানের, মানে. বর্তমানে বাংলাদেশের যশোর জেলার মহেশপুর গ্রামে এই রায় চৌধুরীদের আদিনিবাস ছিল । দেশভাগের সময় এই বাড়ির সদস্যরা নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জ থানার পাবাখালীতে চলে আসেন বিনিময়ের মাধ্যমে । মহেশপুর থেকে পাবাখালীর দূরত্ব মাত্র পঁচিশ কিমি হলেও, বর্তমানে সে ব্যাবধান দুটি দেশের ।প্রথা অনুযায়ী আজও দেবী দূর্গার কাঠামো পুজো হয় রথযাত্রায় । বাড়ির কর্তা পিনাকিপ্রসাদ রায়চৌধুরী জানান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের পুজোটি আমাদের পরিবারের সদস্যরা করতেন । তিনারা এই দেশে আসার পর একই ভাবে,একই নিয়মে সেই পুজা শুরু করেন ।একসময় জমিদাড়ি বৈভব হারালেও, পুজোর নিষ্ঠার কোনও খামতি নেই । শুধু প্রতিমা তৈরিতে নয়, সাধারণ বাড়ির পুজো থেকে এই বাড়ির নিয়মে রয়েছে অনেক ফারাক । ষষ্ঠীর দিন হোমের আগুন জ্বলে, নেভানো হয় দশমীতে । সঙ্গে চলে চারদিন ধরে চন্ডীপাট ।এক চালার প্রতিমা, দেবীর এক হাতে ত্রিশূল অন্য হাতে সাপের লেজ ।প্রথা অনুযায়ী ভোগ দেওয়া হয় চারবার । সকালে পাঁচ রকমের ভাজা সহ কলাই ডালের খিচুড়ি, সঙ্গে ফল ও মিষ্টি । দুপুরে অন্ন ভোগ । বিকালে পরমান্ন ভোগ । রাতে লুচি সুজি, সন্দেশ । ওপার বাংলার সন্ধিপুজোতে কামানের গর্জন শোনা গেলেও এপার বাংলায় কামানের কোন ও অস্তিত্ব নেই । পরিবর্তে সন্ধীপুজায় ছোঁরা হয় বন্দুকের গুলি । দশমীতে আবার ভোগ হয় পান্তা ভাত ও শিবের জন্য তামাক (গাঁজা )।আজোও প্রথা মেনে বিজয়া দশমীতে কাঁধে করে প্রতিমা বহন করে শিবনিবাসে চূর্ণী নদীতে বিসর্জিত হয় দ্বিভূজা দুর্গাপ্রতিমা । সঙ্গে চলে মিষ্টি মুখ ।এই প্রাচীন পুজো দেখতে প্রতি বছরই ভিড় জমান অগণিত মানুষ

