মলয় দে নদীয়া:- সমাজের সকল অংশের মানুষ নির্ভরশীল কৃষকের উৎপাদিত ফসলের উপর। অথচ তাদের সুবিধা অসুবিধার কথা না জেনে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা না শুনে ঠাণ্ডা ঘরে বসে সরকারি কৃষি বিল প্রস্তুত হয়েছে যা তাদের সর্বনাশ ডেকে নিয়ে এসেছে বলেই মনে করছেন কৃষকরা। সারা ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকরা মিলে তৈরি করেছেন সংযুক্ত কৃষক মোর্চা। বিগত 9 মাস ধরে রাজধানী দিল্লি কে ঘিরে সরকারি রক্তচক্ষু কনকনে ঠাণ্ডা কঠোর তাপদাহ কে উপেক্ষা করে কর্পোরেট স্বার্থবাহী তিনটি কৃষি আইন বাতিল , বিদ্যুৎ সংশোধনী আইন বাতিল, এবং কৃষিপণ্যের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। এবং এই আন্দোলন চলাকালীন 630 জন কৃষক ইতিমধ্যেই মৃত্যুবরণ করেছেন। আরো বিপুল সংখ্যক কৃষককে, শীতের রাত্রে জলকামান, লাঠিচার্জ ,কাঁটাতারের বেড়া, হাজার হাজার পুলিশ মোতায়েন, শৌচাগার ভেঙে দেওয়া, পানীয় জল বন্ধ করে দেওয়া এবং নানা সরকারি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করে মাদক আইন, অস্ত্র মামলা, সহ বিভিন্ন দেশ বিরোধী আইনে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে বলেই মনে করেন কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন করা বিভিন্ন রাজনৈতিক অরাজনৈতিক এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। নাট্যকার, লেখকলেখিকা ,সাংস্কৃতিক প্রবন মানুষ ,বুদ্ধিজীবী সহ বহু সমাজের সকল স্তরের সাধারণ সুহৃদয় সচেতন সাধারণ মানুষ,এগিয়ে এসেছেন কৃষকদের পাশে। সারা ভারতবর্ষের জনমত তৈরি করতে আজ সাতাশে সেপ্টেম্বর 2021 ভারত বন্ধের ডাক দিয়াছেন সংযুক্ত কৃষক মোর্চা। বিভিন্ন বামপন্থী ট্রেড ইউনিয়ন, এবং জেলায় জেলায় বামফ্রন্টগত ভাবে বোনকে সমর্থন করার জন্য সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে পথসভা মিছিল পোস্টারিং জাঠা সংগঠিত করতে দেখা গিয়েছিল আগেই, আজ তা কার্যকরী করতে একদিনের প্রতীকী ধর্মঘটে সাধারণ মানুষকে পাশে পেতে পদযাত্রা সাইকেল রেলি লক্ষ্য করা গেলো। অন্যদিকে কবি সাহিত্যিক চিত্রকর নাট্যকার শিক্ষক, কৃষক, পরিবহন এবং অন্যান্য শ্রমিক, হকার সকলকে নিয়ে তৈরি শান্তিপুর জনউদ্যোগ বিগত এক মাস ধরে নিয়মিত প্রচারকার্য চালিয়ে গেছে। আজ তাদেরও সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে অনুরোধ করতে দেখা গেলো ভারত বনধকে সমর্থন করে কৃষকের পাশে মানসিকভাবে দাঁড়ানোর জন্য।
অন্যদিকে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল নেতৃত্ব দীর্ঘদিন কর্ম অবস্থার পরে কর্মদিবস নষ্টের পক্ষপাতী না হলেও, কৃষকদের আন্দোলন কে সমর্থন জানিয়েছেন। জাতীয় কংগ্রেসের অবস্থানও কৃষি বিলের বিরুদ্ধেই। তবে বিজেপির অভিমত কৃষকদের ভুল বুঝিয়ে প্রকৃত বিকাশ থেকে দূরে রাখতে চাইছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের নিজেদের স্বার্থে।
জেলার কৃষ্ণনগর রানাঘাট চাকদহ হরিণঘাটা কল্যাণী করিমপুর চাপড়া তেহটটো সর্বত্রই চিত্রটা প্রায় একই রকম। মূল শহরে বন্ধের কিছুটা প্রভাব পড়লেও গ্রাম অঞ্চলের স্বাভাবিক ছিলো সমস্ত কিছু। অনিয়মিত হলেও ট্রেন চলাচল ফেরি পারাপার এবং সড়ক পরিবহনে খুব বেশি প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। ব্যাংক পোস্ট অফিস খোলা থাকলেও উপভোগ তাদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি, কর্মচারীরাও ছিলেন গরহাজির। বেলা বাড়তেই দোকান বাজার হাট সবকিছুই ছিল মোটামুটি স্বাভাবিক।

