গতকাল ছিলো সাধারণ গ্রন্থাগার দিবস! দীর্ঘদিনের অবহেলা গুরুত্বহীনতায় ভগ্নস্বাস্থ্য ধরা পরল আমাদের ক্যামেরায়, উঠে এলো হাঁড়ির খবর

 

মলয় দে নদীয়া :- শতাব্দী থেকে শতাব্দী ধরে মানুষের সব অভিজ্ঞতা জ্ঞান জমা হয়ে রয়েছে বইয়ের অন্তরে। অন্তহীন জ্ঞানের উৎস হলো বই, আর সেই বইয়ের আবাসস্থল হলো পাঠাগার বা গ্রন্থাগার। সাধারণ গ্রন্থাগার দিবস ছিলো গতকাল, সাধারন গ্রন্থাগার দিবস উপলক্ষে সকলকে শুভেচ্ছা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এইরকমই একদিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, বই আমাদের সম্পদ। আসুন আমরা বই পড়ি ও পড়াই।
আর এই বিশেষ দিন হিসেবে আমরা খোঁজ নিতে বেরিয়েছিলাম, লাইব্রেরীর স্বাস্থ্য এবং হালহকিকৎ। চাকরির সুবাদে ক্যামেরার সামনে কেউ মুখ খুলতে না চাইলেও, ঝুলি থেকে বেরিয়ে আসলো নানান দুরবস্থার কাহিনী। সরকারিভাবে
মহাকুমা জেলা শহর এবং গ্রামীণ গ্রন্থাগারের সংখ্যা মিলিয়ে মোট 2480 টি। যার মধ্যে নদীয়া জেলায় 110 টি। যার মধ্যে কুড়িটি বন্ধ গত 10 বছর ধরে, সাথে কর্মচারীদের নিয়োগ প্রক্রিয়াও। নিয়ম অনুযায়ী জেলা গ্রন্থাগারে 10 জন মহকুমা গ্রন্থাগারে ছজন এবং শহরে চারজন ও গ্রামীন গ্রন্থাকারে দুজন করে থাকা উচিত । অর্থাৎ জেলার আঙ্গিকে 234 জন প্রয়োজন! সে জাগায় মাত্র 60 জন কোনরকমে স্রোতের বিপরীতে লাইব্রেরী পাঠকে ভরিয়ে তোলার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কর্মচারীদের মতন অফিসারেরও একই হাল! নদীয়া এবং মুর্শিদাবাদ দুটি জেলার ডিস্ট্রিক্ট লাইব্রেরি অফিসার পদ সামলাচ্ছেন মনোঞ্জয় রায়। মুর্শিদাবাদে বাড়ি হওয়ার সুবাদে নদীয়ার কাগজপত্র সই করা ছাড়া খুব বেশি পাওয়া যায় না তাকে। গ্রন্থাগারে সহযোগী তো দূরের কথা একজন লাইব্রেরীয়ান একই সময়ে সামলান দুটি লাইব্রেরী! কখনো বা একটি দুপুর পর্যন্ত অন্যটি বিকাল।
গতকাল সাধারণ গ্রন্থাগার দিবস উপলক্ষে মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী পাঠক বাড়ানো নানান তত্ত্ব নিয়ে সুন্দর বক্তব্য রেখেছেন, কিন্তু কিভাবে সামলাবেন দীর্ঘদিনের উইপোকার রাজত্বে মূল্যবান গ্রন্থ সংরক্ষণ বা পাঠকবৃদ্ধিতে সচেষ্ট হতে?
আমাদের ক্যামেরায় ধরা পরলো, শান্তিপুর হরিপুর পঞ্চায়েতের অন্তর্গত নৃসিহপুর অঞ্চলের একটি গ্রন্থাগার দীর্ঘদিন জঙ্গল পরিষ্কার এর অভাবে, কর্মচারী না থাকার কারণে লাইব্রেরী নিয়মিত না খোলার ফলে, উইপোকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মূল্যবান বই। এলাকার দাবি দীর্ঘ চার বছর আগে একটি সরকারি সহযোগিতা এসে পড়ে রয়েছে, সরকারি হেলদোল নেই কোনো। যদিও স্থানীয় প্রধান শোভা সরকার জানান যদিও বিষয়টি পঞ্চায়েত এর অন্তর্ভুক্ত নয় ! তবুও বই গুলি আপাতত রাখার জন্য পঞ্চায়েতের দুটি ঘরের ব্যবস্থা করেছি। বিডিও কিছুদিন আগে ঘুরে দেখে যান, অল্পদিনের মধ্যেই মেরামতি এবং পুনঃনির্মিত হবে।