জলপাইগুড়ি সায়ন সেন :: অজানা জ্বরে বাড়ছে আতঙ্ক
গতকাল থেকে জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে শিশু বিভাগের জ্বর বমি পেট খারাপের উপসর্গ নিয়ে শিশু ভর্তির সংখ্যা কিছুটা কমলেও আতঙ্ক বাড়িয়েছে জ্বরে আক্রান্ত এক শিশুর মৃত্যু জানা গেছে গতকাল মেখলিগঞ্জ ব্লকের হলদিবাড়ি হাসপাতাল থেকে জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগের রেফার হওয়া শিশুটির মৃত্যু ঘটেছে চিকিৎসক মহলের বক্তব্য শিশুটির শারীরিক অবস্থা রিপোর্ট পরিষ্কারভাবে না জানার কারণে এই মৃত্যু রেফার হওয়া শিশুটি প্রবল জ্বর নিয়ে হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছিলেন ডাক্তারবাবুদের কাছে সেই সংক্রান্ত তথ্য না পৌঁছানোও শিশুটির মৃত্যু ঘটেছে। অথচ এই মৃত্যুকে ঘিরে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে হাসপাতালে ভর্তি অন্য শিশুদের পরিবারের মধ্যে গতকাল রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ থেকে শিশু বিশেষজ্ঞের দের নিয়ে গঠিত একটি দল জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে শিশু বিভাগের রোগীদের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন শিশুদের মলমূত্র রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। শোনা যাচ্ছে জলপাইগুড়ি সদর হসপিটালের শিশু বিভাগ ছাড়াও নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজে এবং শিলিগুড়ি হাসপাতালে বহু শিশু এই একই উপসর্গ নিয়ে গত কয়েকদিনে ভর্তি হয়েছেন শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতাল নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজ ও ময়নাগুড়ি হাসপাতাল মিলিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। গতকাল পর্যন্ত চিকিৎসকরা এই ধরনের উপসর্গ যুক্ত শিশু রোগীদের ঋতু পরিবর্তনের কারণে ভাইরাল ফিভার বা ইনফ্লুয়েঞ্জা বলে মনে করলেও রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের নজরদারির পর তারা এখনই কিছু বলতে চাইছেন না। অভিজ্ঞ মহলের ধারণা প্রথম থেকে জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অজানা জ্বরে শিশুদের ভর্তি হওয়ার ঘটনা চেপে রাখার কারণেই এই ধরনের অসুবিধার মধ্যে পড়তে হলো স্বাস্থ্য বিভাগকে।
তবে অজানা জ্বরের শিশুর মৃত্যু এবং শিশুদের আক্রান্ত হওয়া চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের কপালে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিশু চিকিৎসক জানালেন যে ধরনের উপসর্গ শিশুদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন এ পাঠানো নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কনফার্ম করা যাবে না কিন্তু এই ধরনের উপসর্গ এনকেফেলাইটিস এর ক্ষেত্রে দেখা যায়। আবার চিকিৎসকদের মধ্যে কেউ কেউ সন্দিহান শিশুদের মধ্যে অজানা জ্বর পেট খারাপ গা বমি ভাব এবং মৃত শিশুর হৃদযন্ত্রের ইনফেকশনের বিষয়টি কোন ভাইরাসের নতুন কোন ভ্যারিয়েন্ট ইঙ্গিত করছে না তো?

