লোন না নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর আবেগের লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের টাকা তুলতে পারছেন না শান্তিপুরের বেশ কিছু স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা সদস্যরা,

লোন না নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর আবেগের লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের টাকা তুলতে পারছেন না শান্তিপুরের বেশ কিছু স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা সদস্যরা,

মলয় দে নদীয়া:- ফ্যালো কড়ি মাখো তেল। গোষ্ঠীর লোনের টাকা শোধ না হলে মিলবে না লক্ষীর ভান্ডার, এমনই এক সিদ্ধান্তে চাঞ্চল্য নদীয়ার শান্তিপুর হরিপুর পঞ্চায়েতের হরিনদী গ্রামের বেশ কিছু মহিলা গোষ্ঠীর সদস্যা দের ক্ষেত্রে। তারা আনুমানিক প্রায় ৫০ ৬০ জন অভিযোগ জানাচ্ছেন, তারা বিভিন্ন মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে তারা লোন নেননি। কিন্তু লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হয়ে রয়েছেন দীর্ঘ ৮- ৯ মাস যাবত। তাদের সাফ কথা যখন লক্ষীর ভান্ডার ছিল না তখন ঋণ খেলাপি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যে যে ব্যবস্থা নেওয়া হতো এক্ষেত্রেও তাই নেওয়া হোক কিন্তু মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত মানবিক প্রকল্পের এই টাকা মহিলাদের একান্তই সান্মানিক তাই সেই টাকা তাদেরকে না জানিয়ে কেটে নিতে পারেন না ব্যাঙ্ক ম্যানেজার। আর এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে নৃসিংহ পুর বঙ্গীয় গ্রামীন ব্যাংকে বিক্ষোভ দেখান লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প থেকে টাকা না তুলতে পারা মহিলারা।
স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী জালাল শেখ মহিলাদের পাশে থেকে বিষয়টি তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন ব্যক্তিগত একাউন্টের টাকা হলে হয়তো গায়ে লাগতো না কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া টাকা মহিলারা না পেলে দলীয় ভাবমূর্তি ও খারাপ হচ্ছে তাই এ বিষয়ে প্রশাসনিক এবং দলীয়ভাবেও উচ্চ নেতৃত্ব কে জানাবেন তিনি।
ব্যাংক ম্যানেজার অবশ্যই জানাচ্ছেন কোন টাকা কেটে অন্য একাউন্টে নিয়ে যাওয়ার অধিকার ব্যাংকের নেই সিস্টেম অনুযায়ী একটি সেভিংস একাউন্টে থাকা সব টাকাই সমান সেই টাকার উৎস বড় কথা নয় । তবে স্বনির্ভর দল গঠনের সময় একে অন্যের দায়িত্ব নেওয়া গোষ্ঠী গড়ে ওঠে সেক্ষেত্রে যদি কেউ লোন নাও নেন কিন্তু গোষ্ঠীর লোন পরিশোধের দায়িত্ব তার থেকেই যায় এটাই নিয়ম আর সেখানেই তারা নিজস্ব ডকুমেন্টেশন করে সই করেছিলেন। বিগত বেশ কিছু বছর ধরে ঠিক মতন আর্থিক লেনদেন করেন না তাই একদিকে যেমন গোষ্ঠীর ওই অ্যাকাউন্টের পরিস্থিতি খারাপ ঠিক তেমনি তার সঙ্গে যুক্ত থাকা সেভিংস অ্যাকাউন্টটিও ব্লক হয়ে রয়েছে তবে সমস্ত টাকা তাদের নিজ নিজ একাউন্টেই রয়েছে। গোষ্ঠীর সকলে মিলে আলোচনা ভিত্তিক টাকা পরিশোধ করলে খুলে যাবে সকলে অ্যাকাউন্ট এটা সরকারি নিয়ম ব্যাংকের বিষয় নয়। সব থেকে বড় কথা হচ্ছে লক্ষীর ভান্ডার তাদের কাছে যেমন আবেগ ঠিক তেমনি মহিলাদের স্বনির্ভর পড়তে রাজ্য সরকারের এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। তাই দুই একটি গোষ্ঠী এ ধরনের ব্যাড রেকর্ড তৈরি করলে হাজার হাজার গোষ্ঠীর জন্য তা ভুল বার্তা পৌঁছাবে সেই জন্য নিয়ম সকলের জন্যই সমান। তবে উনারা লোন পরিশোধ করলে আরও বড় মাপের লোন পেতে পারেন তাই আলোচনা ভিত্তিক পরিশোধ করা দরকার।

গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান বীরেন মাহাতো অবশ্য জানান, ব্যাংক এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের নিয়ে স্থায়ী মীমাংসার চেষ্টা তিনি করবেন, তবে সেক্ষেত্রে দুটোই সরকারি প্রকল্প তা মানছেন তিনিও।