বিজেপির টিকিটে জয়লাভ করে তৃণমূলে যোগদানকারী জীবিত পঞ্চায়েত প্রধানের ছবিতে মালা দিয়ে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের আয়োজন বিজেপি কর্মী সমর্থকদের। আইনের দ্বারস্থ হওয়ার সাথে নিন্দার ঝড় তৃণমূলে

বিজেপির টিকিটে জয়লাভ করে তৃণমূলে যোগদানকারী জীবিত পঞ্চায়েত প্রধানের ছবিতে মালা দিয়ে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের আয়োজন বিজেপি কর্মী সমর্থকদের। আইনের দ্বারস্থ হওয়ার সাথে নিন্দার ঝড় তৃণমূলে

মলয় দে নদীয়া:-
শ্রাদ্ধ হলো হিন্দু ধর্মের পূর্বপুরুষদের বিশেষ করে পিতা-মাতার আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে এবং তাদের আশীর্বাদ কামনায় দান-ধ্যান ও অতিথিভোজন অনুষ্ঠান।
তবে এবার তা ধর্মীয় বেড়াজাল ভেদ করে রাজনৈতিক আঙ্গিনাতেও পা রেখেছে!
আজ নদীয়ার ফুলিয়ার বয়রাঘাটে এমনই বে নজির আয়োজন দেখা গেলো ভারতীয় জনতা পার্টির কর্মী সমর্থকদের, তবে তাদের দলের কোনো বর্ষিয়ান নেতৃত্ব হলেও নয়তো হত কিন্তু শাসক অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেসে সদ্য যোগদান করা গয়েশপুর পঞ্চায়েতের প্রধানের ছবিতে মালা দিয়ে রীতিমতন সমস্ত ধর্মীয় উপাচার মেনে ব্রাহ্মণের মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের সমস্ত পরলৌকিক ক্রিয়াকর্মাদী পিন্ডদান পর্যন্ত করতে দেখা গেলো। ওই বিজেপি কর্মী সমর্থকদের।
তাদের দাবি বিজেপির টিকিটের জয়লাভ করে তৃণমূলে যাওয়ার সময় ভোটারদের সাথে আলোচনা তো দূরের কথা নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য অর্থের বিনিময়ে গত পঞ্চায়েতে জয়লাভ করানোর কারিগর দের অর্থাৎ বিজেপির দলীয় কর্মী সমর্থকদের সাথে কোন রকম আলোচনা না করেই তিনি যোগদান করেন শাসক দল তৃণমূলে। অথচ সাধারণ মানুষ তৃণমূলের সন্ত্রাস দুর্নীতি ব্যভিচারের বিরুদ্ধে তাকে জয়লাভ করিয়েছিলো, কিন্তু তাদের রায় নিজের স্বার্থসিদ্ধির কাজে লাগিয়েছে ওই প্রধান। তাই একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের চোখে সে মৃত অন্যদিকে দলীয় ভাবেও সে মৃত তাই প্রতীকি ধিক্কার জানানোর এই শ্রাদ্ধের অনুষ্ঠান।
উপস্থিত ছিলেন শান্তিপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি তথা বিজেপি নেতৃত্ব চঞ্চল চক্রবর্তী সহ স্থানীয় দলীয় বিভিন্ন বিজেপি নেতৃত্ব। সম্প্রতি কয়েক বছর আগে তার বাড়ির সামনে সাদা থান কাপড় রেখে যাওয়ার তীব্র প্রতিবাদ তিনি করেছিলেন জানিয়েছিলেন এটা শুধু হিন্দু ধর্মের অপমান তাই নয় মৃত্যু হুমকি। তবে এবারও কি তার থেকেও বেশি ছাপিয়ে গেলো না? যে সনাতনী হিন্দু ধর্মের কথা বিজেপি বলে থাকে সেক্ষেত্রে একনিষ্ঠ একজন কর্মী হিসেবে এবং ধার্মিক ব্রাহ্মণ পরিবারের সু সন্তান সাথে শিক্ষকতা পেশার সাথে যুক্ত হওয়া ব্যক্তিত্বের এ ধরনের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক নেতৃত্ব। তারা বলেন ধর্মীয় আবেগ কাজে লাগিয়ে বিজেপি দল বৃদ্ধির চেষ্টা করছে আদতেও তারা কেউই ধার্মিক নয়, ধর্ম সম্পর্কে ন্যূনতম শ্রদ্ধাও নেই !তাই আজ ছেলে খেলা করেছে। জীবিত মানুষের প্রতি এ ধরনের নিন্দনীয় ঘটনা শাস্তিযোগ্য অপরাধ আমরা এ বিষয়ে দলীয়ভাবে প্রশাসনের দ্বারস্থ হব।
গয়েশপুর পঞ্চায়েত প্রধান শ্যামল ঘোষ অবশ্য বিষয়টিকে খুব বেশি আমল দেননি তিনি বলেন তাদের আচরণ আমার জানা আছে আর সেই কারণেই তো দল ত্যাগ করা।