নিজস্ব প্রতিবেদন, মৌমিতা দেবনাথ,
বিগত বেশ কিছুদিন ধরে যে ঘটনা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে তা হলো দিল্লির ২৬ বছরের তরুণী শ্রদ্ধা ওয়াকারের খুনের ঘটনা। কি নৃশংসভাবে তার প্রেমিক তাকে খুন করে দেহের ৩৫ টি টুকরো বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দিয়েছে তা দেখে হতবাক পুলিশ থেকে শুরু করে তদন্তকারী সংস্থা ও। ২৮ বছরের যুবক আফতাব আমিন পুনাওয়ালার সাথে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন শ্রদ্ধা। গত দশই নভেম্বর তার বাবা দিল্লি পুলিশে এফ আই আর দায়ের করে তার মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে আর তারপরেই তদন্তে উঠে আসে এমন হাড় হিম করা ঘটনা। জেরার মুখে নিজের প্রেমিকাকে খুনের কথা নিজের মুখে স্বীকার করলেন ওই যুবক। তখনও তার মধ্যে এতোটুকু দ্বিধা বোধ নেই ঠান্ডা মাথায় সমস্ত বিবরণ নিজের মুখে দিয়ে চলেছেন যা দেখে স্তম্ভিত অফিসাররাও। শুধু খুন করাই নয় প্রেমিকার দেহাংশ ফ্রীজে বন্দি করেও রেখেছিলেন। জানা যায় শ্রদ্ধা এবং আফতাব একই ফ্ল্যাটে সহবাস শুরু করেন। বিয়ের জন্য শ্রদ্ধা তাকে চাপ দিতে শুরু করে আর তখনই প্রেমিকাকে খুন করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আফতাব মুসলিম হওয়ায় শ্রদ্ধার পরিবার সে সম্পর্ক মেনে নেয়নি তাই প্রেমিকের সাথে নিজের বাড়িও ছেড়েছিলেন শ্রদ্ধা এবং পরিবারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি। তবে মাঝেমধ্যে মেয়ের সাথে তার বাবার কথা হতো কিন্তু বিগত বেশ কয়েকদিন যাবত এর কোন রকম খোঁজ খবর না পেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন তার বাবা। শুধু তাই নয়, ঠান্ডা মস্তিষ্কে প্রেমিকার দেহের ৩৫ টি টুকরো দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় গভীর রাতে ছড়িয়ে দিতে শুরু করে। তদন্তে বেরিয়ে জঙ্গলের মধ্যে থেকেও পচা গলা দেহের টুকরো উদ্ধার করেছে পুলিশ। যে ফ্রিজে শ্রদ্ধার দেহ লুকিয়ে রেখেছিল সেই একই ফ্রিজে ওই যুবক খাবারও রাখতেন এবং দিনের পর দিন বিভিন্ন মেয়ের সাথে নাকি একই ফ্লাটে সহবাসেও লিপ্ত হয়েছিলেন কিন্তু ঘুনাক্ষরেও কেউ তা টের পায়নি। বিভিন্ন রকম ক্রাইম শো দেখে নাকি দেহ লোপাটের এমন চিন্তা ধারা আফতাবের মাথায় আসে। সেফের কাজ করতেন ওই যুবক তাই কি করে টুকরো টুকরো করে মাংস কাটতে হয় সেই পদ্ধতি তার খুব ভালোই জানা ছিল আর শ্রদ্ধার খুনে সেই পদ্ধতিকেই তিনি কাজে লাগিয়েছেন।
মেয়ের সাথে বহুদিন কথা না হওয়ায় পুলিশের দ্বারস্থ হয় শ্রদ্ধার বাবা আর এর পরেই তদন্তে যা উঠে গেল তা দেখে স্তম্ভিত গোটা দেশ একজন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ কি করে এমন কাজ করতে পারে। শ্রদ্ধা বাবা জানান যে বাড়ি এবং সংসার চাকরি সমস্ত কিছু এক হাতে শ্রদ্ধা সামলাত, তার মেয়ের যে এমন পরিণতি হতে পারে তা তিনি ভাবতেই পারছেন না। সুস্থ মস্তিষ্কে কোন মানুষ কিভাবে এমন কাজ করতে পারে তা ভেবে কেউ কূলকিনারা করতে পারছেন না।

