নিজস্ব প্রতিবেদন,মৌমিতা দেবনাথ:
চোখের পলকে ধ্বংস লীলায় পরিণত হলো গুজরাতের মচ্ছু নদীর সেতু, নিমেষে ধ্বংস হয়ে গেল সবকিছু। এক মৃত্যু মিছিলের সাক্ষী থাকল গুজরাত।গতকাল সন্ধ্যে নাগাদ গুজরাতের মোরবি জেলার মচ্ছু নদীর ওপর সেতু ভেঙে ১৪১ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা ইতিমধ্যেই করা হচ্ছে। হাসি মজায় ব্রিজের উপরে মেতে ছিল যে মানুষেরা মৃত্যু কয়েক সেকেন্ড আগেও জানতো না এটাই তাদের জীবনের শেষ মুহূর্ত। চোখের পলকে ধ্বংস লীলায় পরিণত হলো গুজরাত। শুধু মেরিন টাস্ক ফোর্স ই নদী থেকে ১২০ জনকে উদ্ধার করেছে এর সাথে রয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবেলা বাহিনী গুজরাত পুলিশের মেরিন টাস্ক ফোর্স দমকলসহ বিভিন্ন বাহিনী উদ্ধার কাজে নেমেছে।
রবিবার রাতের এই ভয়ংকর বিপর্যয়ের পর আরো এক মর্মান্তিক দৃশ্য নজরে আসে সকলের। প্রাণ বাঁচাতে কেউ তখন ব্রিজের কেবল ধরে ঝুলছেন, কেউ বা ঝুলছেন ব্রিজের ভাঙা অংশ ধরে। সাথে নদী পার হয়ে ওপরে ওঠার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে তখন কোনভাবে যদি জীবনটাকে বাঁচিয়ে রাখা যায়।
প্রধানমন্ত্রীর গুজরাট সফরের মধ্যেই নদীর উপর হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে ওই ঝুলন্ত সেতু মৃত্যু আশঙ্কা আপাতত শিশুসহ বহু পর্যটকদের।ছট পুজোর আগের সন্ধ্যায় ঠিক বিধানসভা নির্বাচনের আগেই গুজরাতের সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীপক্ষের অস্ত্র যেন হাতে নাতে পেয়ে গেল নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিপক্ষের দলগুলো। তবে শুধু সাধারণ মানুষই নয় মারা গেছেন গুজরাতের বিজেপি নেতার বাড়ির বেশ কয়েকজন ভয়ংকর এই দুর্ঘটনায় বিজেপি সাংসদ মোহন কুন্ডারিয়ার পরিবারের সদস্যরা মারা গেছে সাংসদ মহান কুন্ডরিয়ার বোনের পরিবারে ১২ জন সদস্যের মৃত্যুর খবর এখনো পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে নিয়োজিত রয়েছে দুই শতাধিক কর্মী স্থানীয় মানুষদের দাবি দুর্ঘটনার সময় এই সেতুতে তিনশরও বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন সেতু ভেঙে মাঝ নদীতে তলিয়ে গেছেন শত শত মানুষ। উৎসবের মরশুমে নিমেষে গুজরাতে নেমে এলো শোকের ছায়া। ১৮৭৯ সালে মাচ্চু নদীর উপর ৭৬৫ ফুটের দীর্ঘ এই সেতুটি তৈরি করা হয়। ঝুলন্ত সেতুটি পর্যটকদের কাছে ছিল অন্যতম
আকর্ষনের কেন্দ্র। সংস্কারের জন্য চলতি বছরে প্রায় সাত মাস বন্ধ ছিল সেতুটি প্রায় ২ কোটি টাকা খরচা করে সেতুটি সংস্কার করা হয় আর ঠিক চারদিন আগেই সেতুটি খুলে দেওয়া হয় সাধারণ মানুষের জন্য। স্থানীয় সূত্রে খবর বহন ক্ষমতার থেকে বেশি পর্যটক একসাথে সেতুর ওপর উঠে পড়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে, যত রাত গড়ায় বাড়তে থাকে মৃত্যুর সংখ্যা। গুজরাট বিধানসভার আগেই গেরুয়া শিবিরে নেমে এলো শোকের ছায়া বিভিন্ন মহোয় উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক জল্পনা কিভাবে সার্টিফিকেট ছাড়াই খুঁজে দেওয়া হলো সেতু। তৃণমূলের ক ঠাকুর বাংলা থেকে বিজেপি নেতাদের ফ্যাট ফাইন্ডিং টিম পাঠানো হোক পাল্টা জবাব দিয়েছে দু লক্ষ টাকা ও আহতদের জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। তবে এত টাকা অনুদান নিয়ে মানুষ কি করবে কারণ তার পরিবার পরিজন মৃত্যুর কবলে মাঝ নদীতে তলিয়ে গেছে।
তবে এই ভয়ংকর বিপর্যয়ের দায় কার কিভাবে ব্রীজ মেরামতের মাত্র ৪ দিনের মাথায় এভাবে ব্রিজ ভেঙে পড়ল।

