প্রচার খরচের সীমা বেড়ে ৯৫ লক্ষ টাকা, ভিন্ন মত প্রার্থীদের লোকসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পর থেকে প্রচারে বেরিয়ে পড়েছেন সব দলের প্রার্থীরা

প্রচার খরচের সীমা বেড়ে ৯৫ লক্ষ টাকা, ভিন্ন মত প্রার্থীদের লোকসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পর থেকে প্রচারে বেরিয়ে পড়েছেন সব দলের প্রার্থীরা। এখন দেদার চলছে দেওয়াল লিখন। সঙ্গে রাস্তার মোড়ে মোড়ে টাঙানো হচ্ছে প্রার্থীদের সমর্থনে ফ্লেক্স, হোর্ডিং প্রভৃতি। আর ঘরোয়া বৈঠক করে ভোটযুদ্ধের রণকৌশল ঠিক করছেন প্রার্থীরা। তার সঙ্গে সমানতালে চলছে প্রচার। নির্বাচন কমিশনের খবর, এবার প্রার্থীদের প্রচারের খরচ অনেকটাই বেড়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার জেলা নির্বাচন আধিকারিক শরদকুমার দ্বিবেদী বলেন, প্রচারে এবার প্রত্যেক প্রার্থীর খরচসীমা বেড়ে হয়েছে ৯৫ লক্ষ টাকা।
প্রত্যেকে প্রায় এক কোটি টাকা খরচ করে প্রচার করতে পারলেও, প্রার্থীদের মধ্যে খুশি-অখুশি দু’ধরনের ছবিই দেখা গিয়েছে। কেউ বলছেন, এই টাকাই যথেষ্ট। আবার কারও বক্তব্য, প্রচারে খরচ হয় আরও অনেক বেশি, কিন্তু কমিশনের নির্দেশিকা মেনে বেশ কিছু ক্ষেত্রে কাটছাঁট করতে হয়।
গত লোকসভা ভোটে প্রার্থীপিছু প্রচার-খরচের ঊর্ধ্বসীমা ছিল ৭০ লক্ষ টাকা। পাঁচ বছরের ব্যবধানে তা বেড়েছে ২৫ লক্ষ টাকা। প্রচার পর্বে প্রার্থীদের তরফে যে খরচ হবে, সেই তথ্যই জানাতে হবে কমিশনকে।
এবার প্রচার-খরচের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধিতে খুশি দমদমের তৃণমূল প্রার্থী সৌগত রায়। তাঁর বক্তব্য, এতে ভালোই হয়েছে। প্রচারে হয়তো অনেক বেশি টাকাই খরচ হয়, কিন্তু কমিশনের নির্দিষ্ট গাইডলাইনের মধ্যেই প্রচার-ব্যয় দেখান প্রার্থীরা। সুতরাং সেদিক থেকে প্রার্থীদের উপকারই হবে।
তবে প্রচারে বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিরুদ্ধে দমদমের সিপিএম প্রার্থী সুজন চক্রবর্তী। তাঁর বক্তব্য, মানুষের কাছে পৌঁছনোর জন্য প্রচার ব্যয় ৯৫ লক্ষ টাকাই যথেষ্ট। কিছু প্রার্থীর তরফে ২০-৫০ ফুটের ফ্লেক্স বানানো কিংবা কয়েক কোটিতে হেলিকপ্টার চড়া, তাঁর মতে বিলাসিতা। সুজন বলেন, আমি মনে করি, মানুষের কাছে অতি সহজেই নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে পারেন প্রার্থীরা।
অন্যদিকে, কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন দমদমের বিজেপি প্রার্থী শীলভদ্র দত্ত। তাঁর দাবি, প্রচারের খরচ তিনি ৯৫ লাখের মধ্যেই রাখবেন। তাঁর কথায়, প্রার্থীদের প্রচার খরচের উপর কমিশন নিশ্চয় নজর রাখবে। আমি অবশ্যই কমিশনের গাইডলাইন মেনে প্রচার করব। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেওয়াল লিখন দিয়েই প্রচার শুরু হয়। এরপর ধাপে ধাপে খুলে যায় প্রচারের নানা দিক। মিটিং, মিছিল, জনসভা লাগাতার থাকেই। নির্বাচনী কার্যালয় খুলেও রোজ প্রচারের কাজকর্ম পরিচালনা করেন প্রার্থীরা। ফলে প্রচারের এই বৃহৎ পরিসরে ৯৫ লক্ষ টাকা অনেক প্রার্থীর জন্যই যথেষ্ট নয়। তবে, কেন্দ্র-প্রতি একজন প্রার্থীর ৯৫ লক্ষ টাকা খরচ হলে বাংলার ৪২টি লোকসভা আসনের জন্য ভোট-প্রচারের মোট খরচের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩,৯৯০ লক্ষ বা প্রায় ৪০ কোটি (৩৯ কোটি ৯০ লক্ষ) টাকা।