বরাদ্দ বন্ধ, মজুরি বৃদ্ধিতেও বঞ্চনা!, ভোটের মুখে ১০০ দিনের কাজে ‘জুমলা’ বাংলায় ভোট এসেছে। বদলায়নি বাংলার প্রতি বঞ্চনার প্রবণতা। আর তার প্রমাণ ফের মিলল সেই ১০০ দিনের কাজেই। দু’বছর ধরে প্রাপ্য টাকা এবং কর্মদিবস বণ্টন বন্ধ রাখার পর মজুরি বৃদ্ধির অঙ্কেও দুয়োরানি হয়ে থাকল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পশ্চিমবঙ্গ। গুজরাত-মধ্যপ্রদেশের মতো ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যে যেখানে ১০০ দিনের কাজের মজুরি প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে, সেখানে বাংলার ভাগ্যে জুটেছে মাত্র ৫ শতাংশ। বৃহস্পতিবারই ১০০ দিনের কাজের সংশোধিত মজুরির বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কেন্দ্র। কার্যকর হবে ১ এপ্রিল থেকে। সেখানেই বাংলার জবকার্ড হোল্ডারদের দৈনিক মজুরি ২৩৭ টাকা থেকে বেড়ে ২৫০ টাকা করেছে মোদি সরকার। অর্থাৎ, মাত্র পাঁচ শতাংশ। অথচ, অন্ধ্রপ্রদেশের মজুরি বেড়েছে ১০.৯ শতাংশ, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ের ৯.৯ শতাংশ, গুজরাতের ৯.৩ শতাংশ এবং বিহারে ৭.৪ শতাংশ। সর্বাধিক মজুরি (৩৭৪ টাকা) পাবেন হরিয়ানা এবং সিকিমের শ্রমিকরা। আর তাতেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
২০২১ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে আটকে রাজ্যের ১০০ দিনের কাজের বকেয়া। শেষমেশ ৫৯ লক্ষ জবকার্ড হোল্ডারের বকেয়া মিটিয়ে দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। মনরেগার পাশাপাশি আবাস প্লাস প্রকল্পের আট হাজার কোটি টাকাও আটকে রেখেছে কেন্দ্র। অথচ, রাজ্যে এসে বিজেপির দিল্লি নেতৃত্ব দাবি করেছেন, মোদি সরকার টাকা দিয়ে দিয়েছে। এই দাবিকে স্রেফ মিথ্যা বলে জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর আবাস প্লাসের একটি টাকাও যদি কেন্দ্র দিয়ে থাকে, বিজেপির যে কেউ তাঁর সামনে এসে বিতর্কে অংশ নিক। তারপর অবশ্য ৩৫০ ঘণ্টা কেটে গিয়েছে। চ্যালেঞ্জ নিতে বিজেপির কোনও নেতানেত্রী আসেননি। এরই মাঝে জারি হয়ে গিয়েছে মজুরি বৃদ্ধির বিজ্ঞপ্তি।
এ বিষয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারের আক্রমণ, ‘ভোটের আগে মোদির আরও একটা জুমলা। দু’বছর ধরে বাংলার জন্য বরাদ্দ শ্রমদিবস শূন্য। তাহলে ভোটের মুখে এই বিজ্ঞপ্তি শুধুমাত্র রাজ্যবাসীকে বিভ্রান্ত করা ছাড়া আর কী? কোন ভিত্তিতে বাংলার ১০০ দিনের কাজের মজুরি মাত্র পাঁচ শতাংশ বাড়ানো হল? তার কোনও ব্যাখ্যা নেই কেন্দ্রের কাছে।’ তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাকেত গোখলে বলেন, এটা আসলে বাংলার প্রতি বিজেপির ঘৃণার প্রতিফলন।’ মহিলা কংগ্রেসের প্রধান অলকা লাম্বার দাবি, ‘নির্বাচনী আদর্শ বিধি চালু হয়ে গিয়েছে। তারই মধ্যে ১০০ দিনের কাজে মজুরি বাড়িয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করতে চাইছে মোদি সরকার। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন কেন চুপ করে বসে আছে?’ যদিও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের মতে, এটি কোনও নতুন প্রকল্প ঘোষণা নয়। চলতি প্রকল্পের মজুরি শুধু বাড়ানো হয়েছে।’ বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যেরও একই ব্যাখ্যা। তিনি বলেন, ‘এখানে রাজ্য সরকার যদি ১ এপ্রিল থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বর্ধিত ভাতা দিতে পরে, তাহলে কেন্দ্রও এই বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে।

