বসে হয়তো কোনো কাজ করছেন, হঠাত্ উঠতে গিয়ে মনে হলো পা আর নাড়াতে পারছেন না! ঝিম ধরে আছে বা ভারী ভারী লাগছে। দাঁড়াতে গিয়ে বুঝতে পারলেন যে সমস্যা আর কিছু নয়, ঝি ঝি ধরেছে। একটানা একইভাবে বসে থাকলে এমন সমস্যা হতে পারে। আমাদের হাত বা পায়ের পেশিগুলোকে যে স্নায়ু নিয়ন্ত্রণ করে, তার উপর যদি চাপ পড়ে তবে ঝি ঝি ধরার অনুভূতি হয়।
একইভাবে অনেকক্ষণ বসে থাকলে পায়ের কিছু অংশে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। এর ফলে ঝি ঝি ধরার অনুভূতি বাড়ে।
চিকিত্সকদের মতে, ঝি ঝি ধরার অন্য কারণ হতে পারে শারীরিক দুর্বলতা বা কোনো ধরনের সংক্রমণের প্রভাব। আবার অনেক সময় থাইরয়েড, ডায়াবেটিস বা স্ট্রোকের সমস্যা থাকলে এটি হতে পারে। ঝি ঝি ধরার নেপথ্যে কারণ হিসেবে থাকতে পারে থাইরয়েড বা ডায়াবেটিসের মতো সমস্যাও। আমাদের শরীরে সঠিকভাবে রক্ত সঞ্চালন না হলে তার প্রভাব পড়ে শিরাগুলোতে। ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন ঠিকভাবে পৌঁছায় না। এর ফলে শরীর ঝিমঝিম করে বা ঝি ঝি ধরে। জেনে নিন কোন অসুখগুলোর কারণ-
নিউরালজিয়ার কারণে হতে পারে
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউরালজিয়ার কারণে ঝি ঝি ধরার সমস্যা হতে পারে। আমাদের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্থ হলে হাত, পা ও শরীরের অন্য সব অংশে তীব্র জ্বালা ও ব্যথা হতে পারে। বয়সের কারণে বা কোনো সংক্রমণের কারণে এই সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে এই সমস্যা মাঝে মাঝে হতে পারে।
ভিটামিনের ঘাটতি হলে
ঝি ঝি ধরার আরেকটি বড় কারণ হতে পারে শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি। বিশেষ করে ভিটামিন ডি ও ভিটামিন বি ১২ এর অভাবে শরীরে অসারতা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের সমস্যা হলে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় ভিটামিন গ্রহণ করতে হবে।
স্ট্রোকের আশঙ্কা থাকলে
আমাদের মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ না হলে ঘটতে পারে স্ট্রোকের মতো দুর্ঘটনা। কোনো রক্তনালী বাধাপ্রাপ্ত হলে এমনটা ঘটতে পারে। বাঁ হাত অবশ হয়ে যাওয়া হতে পারে স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ। এটি ক্রমশ হাতের তালু পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই ঝি ঝি ধরার সমস্যা হলে সব সময় হালকাভাবে না নেওয়াই ভালো।

