সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হতেই প্রতিমা তৈরীর বরাত বেড়েছে শুভজিতের, ক্যান্সারে আক্রান্ত মাও প্রতিমা গড়ার কাজে হাত লাগিয়েছেন
মলয় দে নদীয়া :-ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে কুম্ভকার সম্প্রদায় ভূক্ত না হওয়া সত্ত্বেও, ছেলেবেলার মূর্তি গড়ার শখ কে কাজে লাগিয়ে উপার্জনের বিকল্প রাস্তা বেছে নিয়েছিল শুভজিৎ।
গত বছর দুর্গাপুজোর সময় আমরা যখন শুভজিতের অসাধারণ শিল্পকর্ম সংগ্রহ করতে গিয়ে জানতে পেরেছিলাম, শুভজিতের বাবা বয়স জনিত কারণে বাবা অসুস্থ, মা ক্যান্সারে আক্রান্ত, ছাত্র-ছাত্রী পড়িয়ে একমাত্র উপার্জন বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো লকডাউনে। বিকল্প আয় হিসেবে এই পথ বেছে নেয় সে। তবে সে বছর মাত্র তিনটি ঠাকুর অর্ডার পেয়েছিলো, তার স্ত্রীর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করার মাধ্যমে।
আমাদের খবর সম্প্রচার হতেই এবার সে ছটি ঠাকুরের অর্ডার পেয়েছে , সংবাদ মাধ্যমের কাছে কৃতজ্ঞতা জানালো শুভ জিৎয়ের স্ত্রী মৌমিতা । তবে এই বাড়তি বরাতের জন্য, স্ত্রী বাদেও কাজে হাত লাগিয়েছে ক্যান্সার আক্রান্ত মাও। মা ছন্দা দে জানান, প্রতিমা ডেলিভারির দেওয়ার সময় এগিয়ে আসছে,ছোটো ঠাকুরে অত্যন্ত ধৈর্যের প্রয়োজন হয়, সময়ও লাগে বেশি, সঠিক সময়ের মধ্যে পছন্দ হয়ে ঠাকুর ডেলিভারি দিতে পারলে আবারও অর্ডার পাওয়া যাবে, তাই ছেলের কাজে কিছুটা সহযোগিতা করা। প্রতিমার অলংকার পরানো, অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ অংশে রং লাগানো এ ধরনের নানা কাজ। অভাবের সংসারে ছেলে কি কোনদিন এ ধরনের কাজ শেখাতে পারেনি, ছবি আঁকার প্রতি শখ থাকলেও তাও পয়সার অভাবে শেখাতে পারিনি। তবে রুটি করার আগে আটা মাথা দিয়ে ছোটবেলা থেকেই অসাধারণ শিল্পকর্ম লক্ষ্য করতাম ওর মধ্যে, জানতাম কোনো একদিন তা বহিঃপ্রকাশ হবেই।
স্ত্রী মৌমিতা বলেন, বহু পুরাতন সাবেকি কালীপুজো অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে যায় এই পরিবারে, শুভজিতের হাতে তৈরি মূর্তিতে তা আবার পুজো শুরু হয় , ওর হাতের অসাধারণ শিল্পকর্ম ভালোবেসে এ বাড়িতে আসা, ওর তৈরি বিভিন্ন মূর্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা, ওর শেখানো ছোটখাটো কিছু কাজ হাতে হাতে করে সহযোগিতা করি। বিশ্বাস করি একদিন, বড় কারখানা হবে আমাদের।শুভজিৎ দে জানান, দিনের বেলায় ট্রেনে অত্যধিক ভিড় থাকার কারণে, ভোরের প্রথম ট্রেনে প্রতিমা পৌঁছে দিয়ে আসা হবে, পৌঁছানোর শর্তেই অর্ডার নেওয়া।

