মলয় দে নদীয়া:- নকশাল আন্দোলন চলাকালীন সিপিআইএমএল নদীয়া জেলা সম্পাদক সমরপাল চৌধুরী ১৯৮০ সালে ২৫ শে মে শহীদ হন। এরপরই তার স্মৃতিচারণ হিসেবে ফুলিয়া বাসস্ট্যান্ডে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে একটি আবক্ষ মূর্তি তৈরি করা হয়। জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ এর কারণে সমর পাল চৌধুরীর আবক্ষ মূর্তি ভাঙ্গা পড়ে এরপরেই ফুলিয়া বাসস্ট্যান্ডের জাতীয় সড়কের পাশে নতুন করে আবক্ষ মূর্তি তৈরি করে দেন ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি। গত ২৫ এই মে প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও তারা সমর পাল চৌধুরীর মূর্তিতে মাল্যদান এবং তার স্মৃতিচারণ হিসাবে দিনভর চলে নানান কর্মসূচি। এদিন বেশ কিছু লাল পতাকা লাগানো হয়েছিল। অভিযোগ গতকাল রাতে কে বা কারা সেই লাল পতাকা খুলে নেন আবক্ষ মূর্তির গায়ে বাঁশ দিয়ে টাঙানো একটি পতাকা। শুধু তাই নয় আবক্ষ মূর্তির পাশে নোংরা অর্থাৎ কিছু জলের বোতল ফেলে নোংরা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শহীদ স্মৃতি রক্ষা কমিটি। যা নিয়ে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য।
এ প্রসঙ্গে শহীদ স্মৃতি রক্ষা কমিটির সম্পাদক রথিন পাল চৌধুরী বলেন, এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দুষ্কর্ম। শোষিত নিপীড়িত বঞ্চিত মানুষের লড়াইয়ের প্রতীক লাল ঝান্ডা , যা সরিয়ে জমি, গাছ মাফিয়ারা দুষ্কৃতীদের সাথে মিলে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের ভাষা হরণ করার অপচেষ্টা করেছে। শুধু সমর পাল চৌধুরী নয়, এর আগেও আমরা লক্ষ্য করেছি ফুলিয়ায় বাচ্চু বোসের শক্তপোক্ত শহীদ বেদী ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তারক দাস ব্যানার্জির মূর্তি ভগ্ন দশায় রূপান্তরিত হয়েছে এ সবই উদ্দেশ্য প্রণোদিত । কিন্তু দুষ্কৃতীরা জানে না, শহীদেরা সাধারণ মানুষের জন্য আত্ম বলিদান দিয়েছে তাই তাদের শেকড় রয়েছে মানুষের মাঝেই।
রাস্তা সম্প্রসারণের সময় ডিএম এর নির্দেশে, সরকারি তত্ত্বাবধানে NHAI এবং ADMLR এর উপস্থিতিতে শহীদদের গুরুত্ব বুঝে ১০/১০ ফুট জায়গা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুষ্কৃতীদের তা বোঝার যোগ্যতা নেই। ইতিমধ্যেই রাজ্য এবং রাজ্যের বাইরে বিভিন্ন প্রতিবাদ এবং বিক্ষোভ সংঘটিত হয়েছে এই বিষয়কে কেন্দ্র করে। তবে আগামী দিনে যদি, আবারো এ ধরনের চেষ্টা হয়, তাহলে মানুষই তার প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

