লিচু বাগানের কর্মী মালিকরা প্লেন না চড়লেও, প্লেন ছাড়া চড়ে না লিচু

মলয় দে নদীয়া :- বিহার পাঞ্জাব রাজস্থানে লিচুর উৎপাদন হলেও তা পাকতে এখনো বেশ কিছু দেরি। তবে বাংলা লিচু স্বাদে গন্ধে যেমন জগৎ বিখ্যাত তেমনই বাজারে উপস্থিত হয় সর্বপ্রথম। ইংরেজি মে মাসের মধ্যেই আন্তরাজ্য এবং বহিঃরাজ্যে এমনকি দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও পাড়ি দেয় বাংলার লিচু।
বাংলার মধ্যে বারুইপুর, মালদা মুর্শিদাবাদ এবং নদীয়ার শান্তিপুর অন্যতম।
তবে, আঁটির লিচু অর্থাৎ দেশীয় প্রজাতির টক মিষ্টি লিচুই বেশি প্রচলিত স্থানীয় বাজারে। এরপরেই বোম্বাইলিচুর স্থান, তবে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পায় একমাত্র আতা বোম্বাই।
নদীয়ার শান্তিপুর শ্রীরামপুর, আলুইপাড়া, বোয়লিয়ায় এ সময় নিস্তব্ধ বাগানে আগমন ঘটে বহিঁরাজ্যের বিভিন্ন ব্যবসাদারদের। আগে বিভিন্ন এজেন্সি মারফত লিচু কিনলেও এখন তারা সরাসরি বাগানিদের কাছ থেকে কেনার চেষ্টা করেন, এতে কৃষকরাও সরাসরি তাদের উৎপাদিত ফসলের উপযুক্ত মূল্য পান। তবে লিচু বাগানের শত শত কর্মচারী হোক বা বাগান ব্যবসায়ী কেউই প্লেনে চড়েন নি কখনো। কিন্তু তাদের হাতের লালন পালনে বড় হয়ে ওঠা লিচু ট্রেনে বাসে না, চড়েন শুধুমাত্র প্লেনেই। আমের ক্ষেত্রে ন্যূনতম চার পাঁচ দিন সময় পাওয়া গেলেও লিচুর মেয়াদ বড়জোর দুদিন। তাই উপযুক্ত সময়ে বাজারজাত করতে, ক্রেতারা প্লেনেই নিয়ে যান সুমিষ্ট মরশুমী এই ফল।
প্রতিটি পিচবোর্ডের বাক্সে, 40 থেকে 50 টি লিচু সম্বলিত আটি, দশটি দিয়ে প্যাকিং হয় বক্স। বাগান থেকে দমদম বিমানবন্দর, তারপরেই উড়ে যায় বাংলার গর্বের লিচু। যা শোভা পায় দেশে-বিদেশের বিভিন্ন শপিংমল থেকে শুরু করে, আন্তর্জাতিক বাজারে।