রিকশা হোক ঐতিহ্যের গর্বের, বিশ্বকর্মা পুজোর দিন শপথ নিন প্রয়োজনে না হলেও প্রয়োজনীয় হয়ে উঠুন সাবেকী রিকশা চড়ে

রিকশা হোক ঐতিহ্যের গর্বের, বিশ্বকর্মা পুজোর দিন শপথ নিন প্রয়োজনে না হলেও প্রয়োজনীয় হয়ে উঠুন সাবেকী রিকশা চড়ে

মলয় দে নদীয়া :-এক সময় দূরের রেলপথে বছরে দুই একবার বেড়াতে আসা আত্মীয়ও নাম জানতেন ওঁদের। কারণ সে সময় এখনকার মতন ফোনে যানবাহন চালকদের ডেকে নেওয়ার ব্যবস্থা ছিলো না। রেল স্টেশনে নেবেই তাদের খোঁজ পড়তো আগে।ওঁরা রিক্সাওয়ালা। তবে আত্মীয় বাড়িতে যাওয়ার পথে নানান কুশল বিনিময় , সে সময় রাজনৈতিক সামাজিক আলোচনা করতে করতে যাত্রী পৌঁছতো আত্মীয় বাড়িতে। আত্মিয়র মতই দুপুরে মধ্যাহ্নভোজ সেরে, আবারো রেল স্টেশনে পৌঁছে দেওয়া ছিল তাদের কাজ। বিনিময়ে মোটা বকশিশ সারাদিনে দু তিনটে ভাড়া হলেই তাদের পরিবার চলে যেতো।
শুধু রেল স্টেশন নয়, কলেজের অধ্যাপক ,পৌরসভার চেয়ারম্যান, থানা ওসি, এমনকি বিডিও এসডিও পর্যন্ত কাজ মেটাতেন রিকশাতেই। বিভিন্ন শহরতলী থেকে গ্রামে যাবার প্রধান উপায় ছিল এই রিক্সা, প্রত্যেক এলাকাতেই ৮- ১০ টি রিক্সা স্ট্যান্ডে দুই শতাধিক চালক থাকতেন প্রতিদিন নিয়মিত। পরবর্তীতে ট্রলি ভ্যান, তারও পরবর্তীতে ইঞ্জিন ট্রলি ভ্যান বর্তমানে টোটোর আধিক্যে আজ তাঁরা বিলুপ্ত। তবে অনেকেই সেদিনের বহু স্মৃতি বিজড়িত রিকশাটি ছাড়তে পারেন নি আজও। বর্তমান টোটোতে রিকশা ভাড়া অনুযায়ী যাত্রীদের যে অনেকটা সাশ্রয় হয় এমন কিন্তু নয়। নিয়ে দেখা গেল আজও দু এক কিলোমিটার পথ দুজন যাত্রী নিয়ে রিক্সা পৌঁছান কুড়ি টাকাতেই। টোটো ভাড়াও জনাপতি দশ টাকা। তবে অর্থের থেকেও মূল্যবান সময়। আর সেই কারণেই হয়তো কেউ আর উঠতে চান না রিকশাতে। তবে পুরনো ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান, সাবেকি রীতিনীতি , অতীতের ডিজাইন বর্তমানে ফ্যাশন যদি হতে পারে। তাহলে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে অন্তত রিকশাভাড়া নয় কেনো? আজ বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে তারা শোনালেন নানা দুঃখের কাহিনী। ক্রমশ সংখ্যালঘু হয়ে পড়ায় বে দখল হয়ে যাচ্ছে তাদের রিক্সা স্ট্যান্ডগুলোও। আমাদের সংবাদ মাধ্যমের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা, প্রয়োজনে না হলেও রিকশা চড়ে প্রয়োজনীয় হয়ে উঠুন এই অনুরোধ জানাই। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অনেক অসম্ভব সম্ভব হয়েছে, এক্ষেত্রেও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সদিচ্ছার মাধ্যমে বিপুল জনমত গড়ে রিকশা চড়া হোক ঐতিহ্যের গর্বের। বাঁচুক বিশ্বকর্মারা।