বেআইনি বাগান ধ্বংসের বিরুদ্ধে অবশেষে মামলা রুজু, পরিবেশ ভাবনা মঞ্চের সভা

বেআইনি বাগান ধ্বংসের বিরুদ্ধে অবশেষে মামলা রুজু, পরিবেশ ভাবনা মঞ্চের সভা

মলয় দে নদীয়া:- নদীয়ার শান্তিপুরে একের পর এক শতাব্দী প্রাচীন আমবাগান ধ্বংসের প্রক্রিয়া চলছে দীর্ঘদিন থেকে ৷ বিষয়টি নিয়ে বেশকিছু পরিবেশকর্মী এবং সংবাদ মাধ্যমের সক্রিয়তায় নড়ে চড়ে বসে প্রশাসন ৷ এবার পরিবেশকর্মীরা বেআইনি সবুজ ধ্বংসের বিরুদ্ধে পথে নামলো ৷ ২৬শে জানুয়ারী সন্ধ্যায় শান্তিপুরের শ্যামচাঁদ মোড়ে একটি পথসভা করা হয় এবং তারপর শান্তিপুর থানায় স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয় ৷ শ্যামচঁদ মোড়ের পথসভায় পরিবেশকর্মীরা জানান যে, স্থানীয় পৌরসভা, বিধায়ক, বন দপ্তর সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে তারা লিখিত ভাবে অভিযোগ জমা দিয়েছেন ৷ তা সত্বেও সংবাদে মাধ্যমে পৌর প্রশাসক এবং বিধায়কের প্রতিক্রিয়া শুনে তারা বিষ্মিত হয়ে পড়েছেন ৷ প্রসঙ্গতঃ শান্তিপুরের শতবর্ষ প্রাচীন হেরিটেজ আমবাগানগুলির মধ্যে অন্যতম লোহারগেট বাগান, নোয়াজনী তলার আমবাগান, তিন নং রেলগেট সংলগ্ন বেশকিছু বাগান, বাথনা কৃত্তিবাস রেল স্টেশন সংলগ্ন বাগান সহ শহরের ঐতিহ্য প্রাচীন আম গাছগুলি বেশ কিছু দিন থেকে শীতের রাতের অন্ধকারে জেনারেটর চালিত করাত দিয়ে গাছগুলি কেটে রাতের অন্ধকারে দ্রুত কাটাগাছগুলি পাচার করা হচ্ছে ৷ পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ টাকার বিনিময়ে কিছু পুলিশ-রাজনৈতিক নেতা এবং বন দপ্তরের একাংশের মদতে নাকি এই কাজ চলছে ৷ আর সেই কারনেই নাকি কাটা গাছগুলি এখনো পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত করা হয়নি ৷ বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক এবং পরিবেশকর্মী সক্রিয় হলে জেলা বন দপ্তরের এক প্রতিনিধী দল শান্তিপুরের বাগান পরিদর্শনে আসে ৷ বাগান পরিদর্শনের তারা স্থানীয় বিএলআরও- সাথে কথা বলে জমির তথ্য জানতে চান ৷ এরপর পরিবেশকর্মীদের চাপে বন দপ্তরের অভিযোগের ভিত্তিতে শান্তিপুর থানার পুলিশ একটি মামলা রুজু করে বলে জানা গেছে ৷ পরিবেশ ভাবনা মঞ্চের যুগ্ম সম্পাদক রঘুনাথ কর্মকার জানান যে, তারা দীর্ঘদিন থেকেই পৌরসভা, বিধায়ক সহ বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে বাগান কাটা বন্ধের আবেদন জানিয়েছেন ৷ পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনকে শক্তিশালী করার লক্ষে তারা পথ সভা করে শান্তিপুর থানায় গণ ডেপুটেশন জমা দিয়েছেন ৷ শান্তিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক লাল্টু ঘোষ জানান যে, এখনো পর্যন্ত কাটা গাছগুলি সিজ করা না গেলেও বন দপ্তরের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে ৷