বিলুপ্তির পথে একসময় গ্রামবাংলায় ঘুরে বেড়ানো অতিপরিচিত অষ্টকগান
মলয় দে নদীয়া:- বর্তমান আধুনিকতার ছোঁয়ায় এবং কর্মব্যস্ততা মানুষের গ্রামবাংলা থেকে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে বেশ কিছু ধর্মীয় রীতিনীতি কৃষ্টি সংস্কৃতি। যার মধ্যে অন্যতম অষ্টক গান। মূলত চৈত্রসংক্রান্তিতে দল বেঁধে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অষ্টগান পরিবেশন করতেন। গৃ্স্থরা তাঁদের সাধ্যমত, চাল, ডাল, অর্থকড়ি দিয়ে সন্তুষ্ট করতেন। এক্ষেত্রে প্রতিটি দলে বাদক, গায়ক ও নৃত্যদল থাকতো। সমবেত কণ্ঠে শিল্পীদের সাথে শিব, পার্বতী, কালী, অসুর, ইত্যাদি চরিত্রে অভিনেতারা মুখোস ও সাজসজ্জা গ্রহণ করে নৃত্যাভিনয় করতো। ছোট দলগুলোর এই গানের প্রধান বাদ্যযন্ত্র ছিল কাঁসা এবং ঢোল। অনেক সময় সুর ঠিক রাখার জন্য গলায় হারমোনিয়াম ঝুলিয়ে মূল গায়ক নেচে নেচে গাইতেন। কিন্তু বড় দলগুলোতে বাঁশি, ঢোল, হারমনিয়াম, মন্দিরা ও খোল ব্যবহার করা হতো।
এই গানে অষ্ট চরিত্রের সমন্বয় ঘটে বলে এ গানের নাম অষ্টক। এই মতে- অষ্ট চরিত্র হলো রাধা, কৃষ্ণ, সুবল, বিশাখা, ললিতা, বৃন্দা, বড়িমাই ও বলরাম। এই চরিত্রগুলোর সাথে শিব অনুপস্থিত। সম্ভবত বৈষ্ণবরা শিবের উদ্দেশ্যে রচিত গানের আদলে, রাধা-কৃষ্ণের লীলা ভিত্তিক এই জাতীয় অষ্টক গান তৈরি করেছিলেন।
যে কোনো ধর্মই অনুষ্ঠানে কলাকুশলীদের দেখা মিলতো, যা আজ লুপ্তপ্রায়। আমাদের ক্যামেরায় ধরা পরল এমনই এক চিত্র, পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে গ্রাম বাংলার পৌরাণিক শ্রুতি নাটক নাম অষ্টগান ।পৌষ সংক্রান্তির তিন দিন আগে থেকে প্রতিটা বাড়িতে অষ্টগানের দল নিয়ে গান শুনিয়ে পয়সা,চাল ,সবজি সংগ্রহ করে পৌষ সংক্রান্তির দিন মাঠে অথবা বনে সবাই মিলে বনভোজন করা কার্যত একটি উৎসবে পরিণত হতো তবে এখন বিলুপ্তির পথে এই অষ্টগান , কিছুটা ম্লান হলেও নদীয়া জেলার একটি অষ্টগানের আসরে আমরা হাজির হয়েছিলাম, দেখাবো সেই চিত্রই । শোনাবো কিভাবে এখনো কলাকুশলীরা ঐতিহ্য ধরে রাখার আপ্রান চেষ্টার কথা, তাদের প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ না করার ফলে হতাশার কথা।

