বিভেদ ভুলে বিক্ষুব্ধরাই তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে প্রচার করছেন সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিভিন্ন ওয়ার্ডে

বিভেদ ভুলে বিক্ষুব্ধরাই তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে প্রচার করছেন সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিভিন্ন ওয়ার্ডে

মলয় দে নদীয়া :- কথায় আছে বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খায়। সুশৃংখল রাজনৈতিক দলে নেত্রীর প্রতি আনুগত্যের কারণেই হয়তো, উল্টো ছবি ধরা পড়ল আমাদের ক্যামেরায়। কিছুদিন আগে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষিত হতেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায় প্রকাশ্য রাস্তায় মিছিল করে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। আবার তাদেরই আজ শহরের 3 নম্বর ওয়ার্ডে দেখা গেলো দলীয় প্রার্থী প্রশান্ত দেবনাথের সমর্থনে প্রচার চালাতে। এ বিষয়ে অবশ্য তারা জানান, নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তি কে টিকিট দেওয়ার বিষয়ে তারা বিক্ষোভ করেননি, বলেছিলেন শুধুমাত্র দুজন মহিলা তৃণমূল প্রার্থী নয়, শহরের 28% সংখ্যালঘু অধ্যুষিত পাঁচটি ওয়ার্ডের জন্য নূন্যতম প্রয়োজন আরো দুজন পুরুষ সংখ্যালঘু প্রতিনিধি। তবে দলের উর্ধ্বে কেউ নয়, আগামী দিনে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বস্ত করার পর তারা আবারও নেমেছেন নির্বাচন সংক্রান্ত দলীয় কাজে। শুধু তিন নম্বর ওয়ার্ডে নয়, শহরের 22 নম্বর 23 নম্বর 9 নম্বর 5 নম্বর এরকম বিভিন্ন ওয়ার্ডে তারা কাজ করছেন দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে। এ প্রসঙ্গে বিধায়ক ব্রজ কিশোর গোস্বামী বলেন, তাদের চাহিদা খুব অসঙ্গত ছিলো না, তবে সবকিছু চাহিদার জন্য একটু সময় এবং ধৈর্যের প্রয়োজন। দল বড় হলে মনোমালিন্য থাকেই, তবে যে দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সে দলে সকলেই তৃণমূল পরিবারভুক্ত। আমরা ওরা নয়, সকলে মিলে চব্বিশশূণ‍্য শান্তিপুর পৌরসভা উপহার দিতে চলেছি সর্বভারতীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে।
যদিও এর পিছনে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল প্রার্থী এবং জেলা সংখ্যালঘু সেল এর দায়িত্বে থাকা অনুপম বিশ্বাস কে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর কারনে বহিস্কার, এবং গতকাল কল্যাণীতে মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের 48 ঘণ্টার মধ্যে দলীয় প্রার্থীর হয়ে প্রচারে বার্তা দলের কাছে জানানোর যে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিভেদ ভুলে সকলে একত্রিত হওয়ার নিদর্শন দেখা যাচ্ছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞগণ।
আজ শান্তিপুর শহরের তিন নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রার্থী প্রশান্ত বিশ্বাস কে পুনরায় কাউন্সিলর নির্বাচিত করার ভোট প্রচারে দেখা গেলো তৃণমূল সংখ্যালঘু সেল এর দায়িত্বে থাকা ইয়ার আলী মল্লিক, রবিউল সেখ এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু নেতৃত্বদের। তারা জানান, বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী তাদের বিষয়টি আগামীতে মান্যতা দেবেন। তবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা করেছেন তার প্রতিদান দিতে তারা শহরের প্রতিটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় বাড়ি বাড়ি তৃণমূল প্রার্থীদের নিয়ে প্রচার এবং দেওয়াল লিখন শুরু করেছেন।