বিবাহের ১৮ বছর বাদে, ব্লাড ব্যাংক আইসিইউ, এস এন সি ইউ বিহীন শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে জটিল অস্ত্রোপ্রচারে তিন কেজি সিস্ট মুক্ত করে সাড়ে তিন কেজি ওজনের শিশুকন্যার জন্ম

মলয় দে নদীয়া :-দীর্ঘ 18 বছর পর সরকারি হাসপাতালের নিরন্তর প্রচেষ্টায় অবশেষে শ্রমিকের ঘরে এলো সন্তান। শান্তিপুর দু’নম্বর রেল গেটের নতুন পাড়া এলাকার বাসিন্দা পেশায় শ্রমিক অজয় বিশ্বাস তার স্ত্রীকে নিয়ে সন্তানের আশায় ঘুরে বেড়িয়েছেন একাধিক হাসপাতালে। তবে কোন কিছুতেই আশানুরূপ ফল মিল ছিল না। অবশেষে তিনি শরণাপন্ন হন শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। এর আগে বিয়ের ছয় মাসের মধ্যে অজয় বিশ্বাসের স্ত্রী আলোমতি বিশ্বাসের পেটের টিউমারের একটি অস্ত্র প্রচার হয় যার জেরে সমস্যা আরো বৃদ্ধি পায়। তবে শান্তিপুর হাসপাতালে চিকিৎসক ডক্টর পবিত্র কুমার বেপারীর তত্ত্বাবধানে তিনি সন্তান সম্ভাবনা হন। তবে এখান থেকেই নতুন করে সমস্যা সুত্রপাত হয়।
সন্তান সম্ভাবনা হওয়ার দু মাসের মধ্যে পেটের পরীক্ষা করে অজয় বাবুর স্ত্রী আলোমতি বিশ্বাসের পেটে একটি বিশাল আকার ওভারিয়ান সিস্ট ধরা পড়ে। সিস্ট দেখামাত্রই চিকিৎসা-পবিত্রকুমার বেপারী কলকাতার বিভিন্ন ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করেন। প্রতিনিয়ত চলে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা। শান্তিপুর হাসপাতালে ডক্টর কৌশিক সাহা, সুব্রত ব্রহ্ম, তিনামনি বিশ্বাস ছাড়াও বিভিন্ন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে নিরন্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলে আলোমতি বিশ্বাসের। অবশেষে 24 সপ্তাহ পরে চিকিৎসকদের নিরন্তর প্রচেষ্টায় কোল আলো করে শ্রমিকের ঘরে এল সন্তান।
এ বিষয়ে ডঃ পবিত্র কুমার ব্যাপারি জানান, ” রোগী সন্তান সম্ভাবনা হওয়ার দু মাসের মধ্যে পেটের ছবি করে আমরা জানতে পারি তার ওভারিতে বিশালাকার একটি সিস্ট রয়েছে। এরপরেই বিভিন্ন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তার নিরন্তন চেকআপ চলে। অন্যত্র রেফার করা হলেও রোগীর পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজনদের অনুরোধে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালেই রোগীর সম্পূর্ণ চিকিৎসা এবং অস্ত্রপপোচার করা হয় সফলভাবে। এরপরেই সময় মত বিভিন্ন চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীর অপারেশন করা হয়। রোগীর পেটে বিশালকার সিস্ট থাকার কারণে আরারি না কেটে লম্বালম্বি ভাবে অস্ত্রোপচার করে সফলভাবে তার সিস্ট বার করে ডেলিভারি করা হয়। সদ্য যাতে ওজনও স্বাভাবিক রয়েছে মা এবং সব্যসা দুজনাই সুস্থ রয়েছে বর্তমানে। আগামী ২৪ ঘন্টা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলেও আমরা আশাবাদী মা এবং সদ্যজাত দুজনেই সুস্থ থাকবেন।”
সাধারণত দেখা যায় সরকারি হাসপাতালের প্রতি অনীহা থাকে বেশ কিছু মানুষের। তবে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে চিত্রটা আর পাঁচটি সরকারি হাসপাতালে থেকে অনেকটাই যে আলাদা তা বলাই বাহুল্য। এর আগে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জটিল অস্ত্র প্রচার করে সংবাদের শিরোনামে উঠে এসেছে শান্তিপুর জেনারেল হাসপাতাল। বিভিন্ন উন্নত পরিকাঠামোগত অভাব থাকা সত্ত্বেও একের পর এক জটিল থেকে জটিলতম অস্ত্র প্রচার সফলভাবে সম্পন্ন করছেন শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকেরা। সুতরাং বলাই যেতে পারে সদিচ্ছা থাকলে বিভিন্ন প্রতিকূলতা কাটিয়ে মানুষের যে সেবা করা যায় তার জ্বলন্ত উদাহরণ শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতাল।