প্রাচীন-মধ্য বদলে আধুনিক যুগ , বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পোর্টালে আপডেটের অভাব,নম্বরের শ্রেণীবিন্যাসে অসংগতি হঠাৎ সিলেবাস বদলে বিপাকে ছাত্র-ছাত্রীরা

নিজস্ব সংবাদদাতা, শান্তিপুর:- কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরের সাধারণ বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে এপ্রিল মাসের ২৫ তারিখ। সেই পরীক্ষার অ্যাডমিট হাতে পেয়ে চিন্তায় ঘুম উড়েছে ছাত্রছাত্রীদের। স্নাতক স্তরের সাধারণ বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের বাংলার সিলেবাস হিসেবে ” প্রাচীন ও মধ্যযুগের সাহিত্যের ইতিহাস” নির্দিষ্ট থাকলেও প্রভিশনাল অ্যাডমিট কার্ড হাতে পেতে বিপাকে পড়ুয়া কারণ, প্রাচীন ও মধ্যযুগের সাহিত্যের ইতিহাস বদলে পরীক্ষা হবে” আধুনিক যুগের সাহিত্য ইতিহাস” বিষয়। অবিলম্বে পুরনো সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণার দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দফায় দফায় বিক্ষোভ হয় শান্তিপুর কলেজে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই হঠাৎ সিদ্ধান্ত বদল নিয়ে সরব হয়েছেন বিভাগীয় অধ্যাপকরাও। অবিলম্বে সিলেবাস পরিবর্তনের আবেদন জানাচ্ছেন তারাও।
তবে সমস্যা শুধু শান্তিপুর কলেজের ক্ষেত্রে নয় কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত ৪৫ টি কলেজেই একই অবস্থা বলে জানা গেছে বিশেষ সূত্রে।
প্রসঙ্গত, শিক্ষাবর্ষে ভর্তির সময় বিশ্ববিদ্যালয় তার নিজস্ব ওয়েবসাইটে সিলেবাস প্রকাশ করে। সেই সিলেবাসে দেখা যায় বাংলার সাধারণ বিভাগে প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা হবে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (প্রাচীন ও মধ্যযুগ)। পরীক্ষার প্রাথমিক এডমিট কার্ড সংগ্রহ করতে গিয়ে এই অসঙ্গতি চোখে পড়ে পড়ুয়াদের। তৎক্ষণাৎ তারা কলেজ কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন l শান্তিপুর কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধানসহ অন্যান্য শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে অবিলম্বে তা সংশোধনের অনুরোধ জানিয়েছেন। শান্তিপুর কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডঃ সুচিস্মিতা সেনগুপ্ত জানান ” ছাত্র-ছাত্রী তো দূরের কথা আমরাই তো জানি না। এতদিন তো প্রাচীন মধ্যযুগ পড়িয়েছি হঠাৎ করে যদি বলা হয় আধুনিক যুগের উপর পরীক্ষা দিতে হবে তা নিতান্তই অবিবেচনা প্রসূত সিদ্ধান্ত হবে”। প্রথম সেমিস্টারের বাংলা বিভাগের পড়ুয়া অনিকেত দেবনাথ জানিয়েছে ” স্যার ম্যামরা কোনদিন আধুনিক যুগ পড়াননি আমরাও কোনদিন পড়িনি, হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হলে আমরা কি করে পরীক্ষা দেব”।
অসংগতি শুধু বাংলা বিষয়ে নয়, ইংরেজিতেও নম্বরের শ্রেণীবিন্যাসে ১০ ৫ নাম্বারের প্রশ্ন উধাও হয়ে দু নম্বরে দাঁড়িয়েছে যা ছাত্রছাত্রীরা একেবারেই প্রস্তুত ছিল না। সমাজবিদ্যাতেও এ ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে।
ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সঞ্জয় দেবনাথ বলেন শিক্ষা পোর্টালে কোনো আপডেট নেই, ফলে ছাত্রছাত্রীরা বিভ্রান্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে ছাত্রছাত্রীরা, ছাত্র সংগঠনের সহযোগিতা ও নিয়েছেন। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে রূপম পাল জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তাদের উচ্চ নেতৃত্ব , গভর্নিং বডির প্রেসিডেন্ট বিধায়ক ব্রজ কিশোর গোস্বামী কলেজ কর্তৃপক্ষ সাথে কথা বলবেন। তবে কোনোভাবেই ছাত্রছাত্রীদের অসুবিধায় ফেলা যাবে না, এমনকি ছাত্র-ছাত্রীদের কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করার পক্ষপাতী ও তারা নয়, তাদের দাবি কলেজ কর্তৃপক্ষ এর সমাধান করুক।
শান্তিপুর কলেজের অধ্যক্ষা ডাঃ চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই কথা বলা হয়েছে আশা করি সমাধানের পথ বেরোবে।
আজ শান্তিপুর কলেজে প্রিন্সিপাল উপস্থিত না থাকার কারণে দায়িত্বে থাকা ইনচার্জ এর কাছে ছাত্রছাত্রীরা একটি লিখিত ডেপুটেশন দেয় তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে। সমস্যার সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে তারা যেতে বাধ্য হবেন বলেই জানিয়েছেন আমাদের।
পরীক্ষার বাকি এক মাসেরও কম সময়। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে নতুন সিলেবাস আয়ত্ত করা পড়ুয়াদের পক্ষে কার্যত অসম্ভব এমনটাই মত শিক্ষক থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের। ছাত্র-ছাত্রীদের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে সিলেবাস বদলের সিদ্ধান্ত রদ করা হয় কিনা সেটাই দেখার অপেক্ষা।