মৌমিতা দেবনাথ,
এ এক নজিরবিহীন দৃশ্য। পুলিশকে তো হামেশাই দেখা যায় অপরাধীদের শাস্তি দিতে কিন্তু কখনো কি পুলিশ আধিকারিককে দেখেছেন একেবারে মামার ভূমিকায়। এবার সেই ঘটনাই ঘটলো হাওড়া স্টেশন চত্বরে। জন্মের পর থেকেই স্টেশন চত্বরেই মায়ের সাথে থাকছে ছোট্ট গনেশ। মা সারাদিন এলাকার একটি হোটেলে কাজ করেন আর তখন ছোট্ট গণেশ থাকে রেলের চাইল্ড হেল্পলাইন ডেস্কে । রেলের জিআরপি পুলিশ এবং পুলিশ দিদিদের কোলেই সময় কাটে তার। গত ডিসেম্বরে তার জন্ম হয় । সাত মাস আগেস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন টুম্পা দাস। স্টেশনের চাইল্ড লাইন সংস্থা এবং হাওড়া জিআরপি আধিকারিকরা মা ও সন্তানকে নিজেদের উদ্যোগেই হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর সুস্থ হয়ে ফিরে টুম্পা এক হোটেলে কাজে যোগ দেয় এবং তখন থেকেই সমস্ত পুলিশকর্মীরাই ভার তুলে নেয় ছোট্ট গণেশের। রবিবার স্টেশন চত্বরে সাত মাস বয়সী ছোট্ট গণেশের অন্নপ্রাশনের এলাহী আয়োজন করা হলো। পঞ্চ ব্যঞ্জন সহকারে মাথায় টোপর এবং পাঞ্জাবি পড়ে পুলিশ মামার হাতে প্রথম ভাত খেলো গনেশ।হাওড়া জিআরপি ইন্সপেক্টর সিদ্ধার্থ রায় জানান, এমন অনুষ্ঠান এর আগে করা হয়নি। চাইল্ড লাইনের কর্মীরা বহুদিন ধরেই চাইছিলেন যে বাচ্চাটির মুখে ভাতের আয়োজন করা হোক যেহেতু স্টেশন চত্বরেই তার জন্ম। আর পাঁচটা শিশুর যখন অন্নপ্রাশন হয় তখন স্টেশন চত্বরে শিশুরা কেন বঞ্চিত হবে। সেই ভাবনা থেকেই এই আয়োজন।

