চাঁচলঃ১১ মার্চ
সংস্কারের দুইদিনের মাথায় হাত দিলেই খুবলে আসছে পিচের রাস্তার চাদর।প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনায় নিম্নমানের কাজে সরব হলেন গোটা এলাকাবাসী।গ্রামীণ সড়ক বাঁশের ব্যারিকেড বেঁধে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন এলাকার বাসিন্দারা।শনিবার দুপুরে ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে মালদহের চাঁচল-১ নং ব্লকের কলিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের দুলিয়াবাড়ী এলাকায়।
প্রায় এক ঘন্টা ধরে চলে বিক্ষোভ ও অবরোধ।
পঞ্চায়েত ভোটের মুখে সড়ক দুর্নীতি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
সম্প্রতি সপ্তাহ খানেক আগে দুলিয়াবাড়ী থেকে অরবরা পর্যন্ত প্রায় ৫ কিমি গ্রামীণ সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে মালদা জেলা পরিষদ।ওই রাস্তার জন্য প্রায় ১১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
তবে সড়ক সংস্কার হলেও তা নিম্নমানের বলে অভিযোগ তুলছে বাসিন্দারা।ওই এলাকার নিজের দাপটে ঠিকাদার কাজ ইচ্ছে মতো করে যাচ্ছে বলে দাবি।নিম্নমানের কাজের নালিশ জানানোর জন্য ঠিকাদারের খোঁজ করা হলে কোনো সন্ধান পাননা বাসিন্দারা।শেষমেষ বাধ্য হয়ে বিক্ষোভে সামিল হলেন তারা।রাস্তায় ব্যারিকেড বেঁধে ও হাতে প্রতিবাদ প্লাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ দেখান।বিক্ষোভের জেরে আটকে পড়ে ছোটো বড়ো যানবাহন।অবশেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে এক ঘন্টা পর অবরোধ উঠে যায়।
বিক্ষোভকারী এক বাসিন্দা কাজি আতাউর রহমানের অভিযোগ,সংস্কারের নামে নাটক হচ্ছে রাস্তায়। থুতু দিয়ে ছাতু মাখানো হচ্ছে।রাস্তার এবড়ো খেবড়ো অংশ বাদ দিয়েই মেরামত করা হচ্ছে।আবার যেখানো মেরামত হচ্ছে,সেখাপে স্বল্প পরিমাণে মশলা দিয়ে পিচিং করা হচ্ছে।হাত দিলেই খুবলে আসছে।বর্ষা আসলেই রাস্তা ধুয়েমুছে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরেক বাসিন্দা গুলেনুর বেগম অভিযোগ করে বলেন,সামনেই পঞ্চায়েত ভোট।ভোট পাওয়ার আশাই মানুষকে শুধু দেখানোর জন্য এই রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে।কিন্তু আদৌও এই রাস্তা ব্যবহারের উপযোগী হবেনা।ঝাঁড় দিলেই বেরিয়ে আসছে রাস্তার কঙ্কালসার চেহারা।এমনভাবে নিম্নমানের কাজ হলে ভোট কাটবে এলাকায়।
পঞ্চায়েত ভোটের আগে সংস্কারের ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
বিজেপির চাঁচল-১ নং ব্লক কো-কনভেনার প্রসেনজিৎ শর্মা বলেন,কেন্দ্রীয় সরকার গ্রামীণ সড়ক সংস্কারের জন্য যথার্থ অর্থ বরাদ্দ করলেও রাজ্য সরকার সেই কাজে কাটমানি বসিয়ে নিম্নমানের কাজ করছে।ঠিকাদার সংস্থা তৃণমূল নেতাদের মোটা অঙ্কের কাটমানি দিতে গিয়েই নিম্নমানের কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে।
যদিও বিজপির এই অভিযোগকে মানতে নারাজ মালদা জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক তথা জেলা পরিষদের সভাধিপতি এটিএম রফিকুল হোসেন।তিনি পাল্টা মন্তব্য করে বলেন,বিজেপির এই অভিযোগ ভিত্তিহীন।আমি নিজে এলাকায় যাব।এবং কাজের গুণগত মান খতিয়ে দেখব।পাশাপাশি তিনি আরোও বলেন,গ্রামীণ সড়ক সংস্কারের ক্ষেত্রে যদি পাঁচ বছরের মধ্যে কাজ খারাপ হয় তাহলে তা ঠিকাদার বহন করবে।

