নদীয়ার শান্তিপুরে বেপরোয়া মোটরসাইকেল এর ধাক্কায় প্রাণ গেলো বৃদ্ধের

মলয় দে নদীয়া :-
আবারো, বেপরোয়া মোটর বাইকের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধের।
দুর্ঘটনাটি গতকাল বিকালে নদীয়ার শান্তিপুর শহরের এক নম্বর ওয়ার্ডের ববি কলোনির। পূর্বের জাতীয় সড়ক বর্তমান শান্তিপুরের প্রধান রাজপথের পাশেই। সেখানকার ৯০ বছর বয়সি নীলকমল মন্ডল শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ তবে বয়স জনিত কারণে, নিজের কাজকর্ম নিজেই করেন ধীরে ধীরে। গতকাল অন্য আর পাঁচটা সাধারণ দিনের মতন আনুমানিক আনুমানিক বিকেল পাঁচটা নাগাদ, রাস্তা পেরিয়ে জল আনতে গিয়েছিলেন রাস্তার পাশের একটি কলে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে তিনি সমস্ত দেখে শুনেই রাস্তা পার হচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ ভদ্রাকালীর দিক থেকে, একটি মোটরসাইকেল তীব্র গতিতে এসে ধাক্কা মারে তাকে। মোটরসাইকেলে এতটাই গতি ছিলো, চালক মুখ থুবড়ে পড়ে পিচ রাস্তায়, বৃদ্ধ ছিটকে যান বেশ কিছুটা দূরে।
এলাকাবাসীরা দুজনকেই শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করালে, বৃদ্ধের শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে, তাকে কৃষ্ণনগরে পাঠানো হয় রাত আটটা নাগাদ। এরপর সেখানেই মৃত্যু হয় তার, মৃতদেহ ময়নাতদন্ত করিয়ে আজ দুপুরে শান্তিপুরের বাড়িতে নিয়ে আসবে বলেই জানায় পরিবার।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মোটর বাইকের চালকের নাম পলাশ মন্ডল বাবা মৃত প্রদীপ মন্ডল, এক নম্বর ওয়ার্ডেরই বিবাদিনগরে তার বাড়ি। যদিও প্রাথমিক চিকিৎসার পরে তার শারীরিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল।
বৃদ্ধের পরিবারের পক্ষ থেকে, শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হবে বলেই জানিয়েছেন আমাদের। তবে তাদের আক্ষেপ, চালকের পরিবার থেকে এখনো পর্যন্ত মৃত্যুর জন্য পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে কারোর সাথে দেখা করা হয়নি। বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর জন্য, এভাবে যাতে আর কোন বৃদ্ধের প্রাণ না যায় সে ব্যাপারে, পুলিশ প্রশাসনের কাছে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গোটা এলাকায় জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
তবে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, বেপরোয়া মোটরসাইকেল ধরতে গেলে এবং হেলমেট বিহীন কিংবা নিয়ম বহির্ভূত ভাবে মোটরসাইকেল নিয়ে চলাফেরা করলে, পুলিশ প্রশাসন যে ভূমিকা নেয় তাতে অনেকেই সমালোচনা করে থাকেন। তবে, প্রাণ বাঁচাতে গেলে নিয়ম মেনে চলতে হবে সকলকেই।