মলয় দে নদীয়া :- ২০১৮ সালের ১৮ই জুন কিষাণ স্বরাজ সমিতি পরিচালিত, বিষমুক্ত খাদ্য বাজারের সূচনা হয়েছিলো। যা গতকাল পাঁচ বছর পূর্ণ করে ছয় পা দিলো। এই উপলক্ষে শান্তিপুর কাশ্যপপাড়ায় বাজারে আগত সকলকে তাদের একটি করে কাপড়ের ব্যাগ উপহার দেন।
দীর্ঘদিন ধরে এই বাজারে বাজার করা ক্রেতা রত্না মুখার্জি জানান, এখানকার কাঁচা আনাজ মসলা সরষের তেল ঘি মধু সমস্ত কিছুই অনেকদিন পর্যন্ত ভালো থাকে। সপ্তাহে দুদিনই তিনি অথবা তার পরিবার সদস্য বাজার সংগ্রহ করে থাকেন । তবে সমস্ত ধরনের আনাজ ফল এখনো পর্যন্ত এখনো পর্যন্ত উপলব্ধ না হওয়ার কারণে কিছুটা দুঃখের সঙ্গে তিনি বলেন কৃষকের সংখ্যা বাড়লে তাদের মতন অনেক মানুষের উপকার হয়।
অপর এক ক্রেতা রতন দাস জানান তার পেটের সমস্যার কারণে এই বাজারে উপলব্ধ আনাজ মসলা খেয়েই তিনি সুস্থ আছেন। সমস্ত কিছু পাওয়া না যাওয়ার কারণে রাসায়নিক এবং কীটনাশক ব্যবহৃত চাষের আনাজ ফল মূল কিনতে হয় বাধ্য হয়ে।
এ প্রসঙ্গে , কষাণ স্বরাজ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শৈলেন চন্ডী বলেন, এটা দীর্ঘদিনের একটা লড়াই। চারিদিক রাসায়নিক সার এবং কীটনাশকের ভরে গেছে, পরিবেশ এবং জমির ক্ষতি হলেও সাময়িকভাবে উৎপাদন বেশি হওয়ার কারণে অনেক কৃষকেরই উপলব্ধি করতে একটু দেরি হবে। তবে সে সময়কার দু তিনজন কৃষক বেড়ে এখন 10-12 জনে দাঁড়িয়েছে। যদিও ক্রেতার আনুপাতিক সংখ্যা বেড়েছে অনেকটাই। ফলে ঘাটতি থেকে যায়। তবে সরকারি সুযোগ-সুবিধা যদি এ ধরনের সংগঠনের সদস্যরা পেতো তাহলে আরো তাড়াতাড়ি সমস্ত মানুষজনকে বিষমুক্ত খাদ্যে অভ্যাস করিয়ে দেওয়া যেতো।
তবে ফলন একটু কম হলেও সরাসরি ক্রেতার সাথে কৃষকের সমন্বয়ে তারা উপকৃত। তাই জৈব চাষে বাড়ছে আগ্রহ।
বিষমুক্ত খাদ্য বাজারের বিক্রেতা, প্রগতি চন্ডী বলেন এখনো পর্যন্ত কিছু শাক, সজনে ডাঁটা থোড় মোচা এ ধরনের খাদ্য উপকরণ স্বাদ বদলাইনি, কারণ রাসায়নিক প্রয়োগ হয়নি বললেই চলে। অনেক সময় প্রবীণরা বলে থাকেন সে চাল বা ডাল তৈরি তরকারি এমনকি মসলা পাতির স্বাদ আর আগের মত নেই। তবে আমাদের বাজারের ডালের বড়ি হোক বা সরষের তেল ঘি মধু, বিভিন্ন ধরনের ফল কিংবা আনাজ যারা খেয়ে থাকেন তারা সেই স্বাদই পেয়ে থাকেন।
ভেষজ আবীর বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী উৎপাদন করে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মেয়েরা একদিকে যেমন নিজে পায়ে দাঁড়াতে পেরেছে তেমনি সাধারণ মানুষকে অনেকটা রোগ মুক্ত রাখতে পেরেছেন।
ভেষজ চাষের কৃষক গঙ্গাচরণ বিশ্বাস বলেন, একদিন কৃষকরা নিশ্চয়ই বুঝবে তাদের জমির ক্ষতি হচ্ছে কীটনাশক ব্যবহারে। তাই জমি, পরিবেশ এবং ক্রেতাদের একসাথে বাঁচানোর প্রধান উপায় দেশি বীজে, দেশীয় প্রক্রিয়ায়, জৈব সার এবং প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি কীটনাশক ব্যবহার।

