নদীয়ার নবদ্বীপ নাস্তিক ভিলায় ভগৎ সিং-এর জন্মদিন পালন
মলয় দে নদীয়া :-আজ নবদ্বীপের ‘নাস্তিক ভিলা’য় ভগৎ সিং-এর জন্মদিন পালন হলো। বুদ্ধিজীবি, চিন্তাবিদ, দার্শনিক, বিপ্লবী ভগৎ সিং সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সমাজের শোষিত মানুষদের শোষনের হাত থেকে মুক্তির জন্য লড়াই করেছিলেন। দেশের এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে ভগৎ সিংকে ফিরে দেখা, তাঁর উদার গণতান্ত্রিক, সমন্বিত জাতীয়তাবাদের শিক্ষার চর্চা নিয়ে ছিল জরুরী বক্তব্য।
ভারতীয় সংবিধানের 51(A)h অংশে বৈজ্ঞানিক মেজাজ, মানবতা, অনুসন্ধানের ঝোঁক এবং 19(1)a অংশে চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা আছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে উগ্র হিন্দুত্ববাদের আদর্শে চলা বর্তমান শাসকের ভয়ে জনগণ কথা বলতেও ভয় পাচ্ছে। এম এম কালবুর্গি, নরেন্দ্র দাভোলকর, গোবিন্দ পানসারে এবং গৌরী লঙ্কেশের মতো মুক্তকন্ঠের মানুষদের হত্যা করা হয়েছে সামাজের সামনে সত্যটা তুলে ধরার জন্য। সংবিধানের পথে শহীদ ভগৎ সিং-এর যুক্তিবাদী ভাবনায় বিজ্ঞানমনষ্ক ভারত গড়ে তুলতে সকল বিজ্ঞানমনষ্ক ও যুক্তিবাদীদের এগিয়ে আসা উচিৎ।
বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী আন্দোলনের কর্মী প্রতাপ চন্দ্র দাস বলেন, ” ঘরে ঘরে কীর্তন হচ্ছে, ধর্মীয় সভা হচ্ছে, বারো মাসে হাজারো পুজো পার্বন হচ্ছে। এতে করে সমাজের কোনো লাভ নেই। বরং সমাজ আরও কুসংস্কারাচ্ছন্ন হয়ে উঠছে, সমাজে অপবিজ্ঞান ও অযৌক্তিক ধ্যান ধারনা মহামারিরনমতো ছড়িয়ে যাচ্ছে এবং সমাজে পচন ধরতে শুরু করেছে। অথচ যাঁরা দেশ তথা সমাজের ভালোর জন্য লড়াই করলেন, যাঁরা সমাজকে কুসংস্কারমুক্ত করে সুস্থ সবল করার কাজ করে গেলেন তাঁদেরকে নিয়ে কেন বারো মাসে হাজারও স্মরণ সভা হবে না? কেন তাঁদের কথা ও অবদান সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া যাবে না? আসুন, আমরা সকলে মিলে ভগৎ সিং-এর জন্মদিনকে ‘বিজ্ঞানমনস্কতা দিবস’ হিসাবে পালন করি। ”
ভগৎ সিংয়ের লড়াকু মানসিকতা, চিন্তা, চেতনা, যুক্তিবোধ, আদর্শ ও উদ্দেশ্য ভীষণভাবে আজও প্রাসঙ্গিক। তা এখনও দেশের যুবসমাজকে প্রেরণা দেয়, উৎসাহ দেয়। দেশের জন্য, নিপীড়িত শোষিত মানুষের জন্য তাঁর জীবনদান হল দেশ ও জাতির জন্য প্রকৃত আত্মবলিদানের এক জ্বলন্ত উদাহরণ। লক্ষ্য করার বিষয়, অন্য স্বাধীনতা সংগ্রামীরা যখন আঁকড়ে ধরেছেন হিন্দুধর্মকে, ভগৎ সিং তখন নির্ভয়ে ডাক দিয়েছেন ধর্ম ও ঈশ্বরবিশ্বাস ছেড়ে বেরিয়ে আসবার । ফাঁসির আদেশের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যখন অন্যেরা আঁকড়ে ধরে ঈশ্বরকে, তখন ভগৎ সিং অকম্পিতচিত্তে লিখেছিলেন ‘কেন আমি নাস্তিক’ নামক সুবিখ্যাত পুস্তিকা, দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নস্যাৎ করেছিলেন ভ্রান্ত বিশ্বাস ও কুসংস্কার। তিনি আজ না থাকলেও তাঁর যুক্তিবাদী চিন্তা, তাঁর লড়াই সংগ্রাম আজও প্রাসঙ্গিক।

