মলয় দে নদীয়া :- পুত্র সন্তান হলে এমন হতো কিনা তা জানা নেই! তবে কন্যা সন্তানের কৃতিত্বের পরিচয় দিতে লাগবে ২ লক্ষ টাকা।
নদীয়ার হবিবপুর গাজীপুরের বাসিন্দা নবজাতকের পিতা ফারুক মন্ডলের এমন দাবি।
সদ্যজাত কন্যার গর্ভধারিণী তাজমিরা বিবি শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতাল থেকে পিতৃত্বের পরিচয় না দিতে পারায়, আজ এক বছর ধরে ঘুরছেন মেয়ের জন্ম সার্টিফিকেট পেতে। বাধ্য হয়ে আজ থানার শরণাপন্ন হয়েছেন তিনি।
তাজমিরার মা আবেদা বিবি বলেন, অত্যন্ত অভাবী পরিবার তাদের, কোনরকম যৌতুক দিতে পারবেন না জেনে শুনেই বিপত্নিক ফারুক মন্ডলের সাথে মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই, কখনো সোনা গহনা কখনোবা নগদ অর্থের চাপ দিতে থাকে মেয়ের উপর।
তবে এত নীচু মন, নিজের জন্ম দেওয়া মেয়ের পরিচয় দিতেও টাকার দাবি। তাই বাধ্য হয়ে আজ মেয়েকে নিয়ে শান্তিপুর থানা দারস্থ হয়েছি। আমরা অত্যন্ত গরিব মানুষ অর্থের যোগান কোনোভাবেই দেওয়া সম্ভব নয়, নাতনির জন্ম সার্টিফিকেট, এবং মেয়েকে স্ত্রীর যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়ে, জামাই ফারুক যাতে সংসার করে সে বিষয়ে প্রশাসন সহযোগিতা করুক।
তাজমিরা বিবি বলেন, এর আগেও বেশ কয়েকবার টাকার দাবি করে শারীরিক অত্যাচার করার জন্য, শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিলো। কিন্তু শ্বশুরমশাই হালিম মন্ডল , অথবা স্বামী ফারুক মন্ডল শান্তিপুর থানায় মীমাংসার জন্য আসেনি, বরং আমাকে মৃত্যুহুমকি দেখিয়েছে। তারা বলে, যা কথা হবে কোর্টে হবে থানায় আসার কোনো প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে হাসপাতাল থেকে পিতৃপরিচয় ছাড়া জন্ম সার্টিফিকেট দিতে চাইছে না।
যদিও এ বিষয়ে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালের সুপারেন্টেন্ড ডক্টর তারক বর্মন বলেন, যেহেতু ছুটির সময় বাবার স্বাক্ষর ছিলো, তাই বাবার প্রমাণপত্র প্রয়োজন। তবে এক্ষেত্রে তাদের সম্পর্কের অবনতি হওয়ার কারণে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরে যোগাযোগ করে তার মায়ের পরিচয় নবজাতকের জন্ম সার্টিফিকেট পেতে পারেন।

