দিন হোক বা রাত শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে, ডেঙ্গি রোধে ভর্তি থাকা রোগীদের মশারি বাধ্যতামূলক, পুরসভারও বিশেষ তৎপরতা

মলয় দে নদীয়া :-
বর্ষার সময়ে প্রায় প্রতি বছরের মতোই এবারও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ছে। রোজই জ্বর আক্রান্তের খবর মিলছে গণমাধ্যমে।
উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ ও মালদার বেশকিছু এলাকায় ডেঙ্গুর প্রভাব দেখা দিয়েছে।
পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র বাংলাদেশে এ বছর ডেঙ্গুতে ১৮৫ জনের মৃত্যু হলো। দেশের ইতিহাসে এটাই দ্বিতীয় সর্বোচ্চসংখ্যক মৃত্যু। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছিল গত বছর। গত বছর মারা গিয়েছিল ২৮১ জন।
রাতের আঁধারে নয়, সারাদিন রোগীদের নিরাপদ আশ্রয় মশারির ভেতর। শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে জ্বর সংক্রান্ত তো বটেই , শিশু বিভাগ শ্রী বিভাগ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও ভর্তি থাকা রোগীদের মশারি বাধ্যতামূলক। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর সজাগ দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে সর্বক্ষণের জন্য। হাসপাতাল সুপার ডক্টর তারক বর্মন বলেন,
জ্বর, মাথার ব্যথা ও লাল ছোপ ছোপ দাগ ডেঙ্গু রোগের তিনটি প্রধান লক্ষণ। জ্বর সেরে গেলে শুরু হতে পারে ডেঙ্গুজনিত রক্তক্ষরণ ও ডেঙ্গু শক সিনড্রোম।
প্রতিবছরের এই সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ে, এবারেও সর্বক্ষণের জন্য সাত থেকে ১২- ১৫ জন ভর্তি থাকছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন তারা। শুধুমাত্র চিকিৎসা নয় পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের সচেতন করা হচ্ছে হাসপাতাল থেকে। নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করা চলছে। সব ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যকর্মী সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে শান্তিপুর পৌরসভার তিন ধরনের স্বাস্থ্যকর্মী মিলিয়ে আনুমানিক চার শতাধিকের বেশি স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে নিরলস ভাবে পরিশ্রম করে চলেছেন ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে।
তবে শান্তিপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ জানান, অনেক ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়িতে গিয়ে জমা জল পরিছন্ন রাখার ব্যাপারে নির্দেশ দিলে অসন্তুষ্ট হচ্ছেন অনেকে। তবে সকলে সজাগ না থাকলে এ বিষয়ে, সার্বিক সুরক্ষা হবে না। মনে রাখতে হবে যার বাড়ির সামনে জমা জলে, মশা জন্ম নেবে শুধুমাত্র তাকেই কামড়াবে এমন কোন মানে নেই তাই দায়িত্ব সকলের। পুরসভার পক্ষ থেকে আগে যে ধোঁয়া দেওয়া হতো সে সম্পর্কে তিনি বলেন, সেটা অস্বাস্থ্যকর হওয়ার কারণে বন্ধ রয়েছে। তবে সাফাই কর্মীরা নিয়মিত পরিষ্কার করছে, ব্লিচিং এবং নর্দমায় বিশেষ এক ধরনের তরল ব্যবহার করে মশার লার্ভা মারার কাজে তারা যথেষ্ট তৎপর। সম্প্রতি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে গাপ্পি মাছ দেওয়া হবে। যা স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় নর্দমায় তা ছাড়া হবে।