মলয় দে নদীয়া:- বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় উন্নত যোগাযোগ মাধ্যমে রিকশা ট্রলিভ্যান এখন অতীত। ইঞ্জিন ভ্যান অটো টুকটুকি টোটোতে ছেয়ে গেছে অলিগলি। অল্প পয়সায় দ্রুত পৌঁছানোর ব্যবস্থা হিসেবে রিকশাকে পেছনে ফেলে এদেরকে আপন করেছে সাধারণ মানুষ। তার ফলে মৃতপ্রায় হয়েছে অতি সুপরিচিত একসময় প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম রিকশা।
ডাক্তার বাবুরা রোগীর প্রাণ বাঁচিয়ে এটা খুব স্বাভাবিক , কিন্তু এক রুগ্ন ভগ্নপ্রায় ৩০ বছরের রিকশাকেই বাঁচিয়ে রেখেছেন শান্তিপুরের এক ডাক্তারবাবু। ভাবছেন তো !সেও আবার সম্ভব হয় নাকি?
নিশ্চয়ই হয়। তাহলে খোলসা করে বলি।শান্তিপুর শহরের 14 নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীতলা পাড়ার সুপরিচিত অপরূপ দেবনাথ, হোমিওপ্যাথি ডাক্তার হিসেবে সুপরিচিত দীর্ঘদিন ধরে। তিনি চোখের চিকিৎসার অপটিমিষ্ট হিসেবেও পড়াশোনা করেছেন।
এই দুই বিষয়ে কলকাতা এবং শান্তিপুরের বিভিন্ন জায়গায় তিনি রোগী দেখে থাকেন বিভিন্ন চেম্বারে। এমন কি কলকাতার একটি কলেজে পড়াতেও যান। এই সকল বিষয়ে, আজ থেকে ৩০ বছর আগে থেকে তিনি ভরসা করে আসছেন, পার্শ্ববর্তী ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মদন গোপাল ঠাকুর লেনের রিকশাচালক শ্যামল কুন্ডুর রিক্সার উপর। শুধু তাই নয়, ডাক্তা বাবুর দোকান বাজার সাংসারিক সমস্ত রকম প্রয়োজন মেটাতো শ্যামল বাবুর রিক্সা। বর্তমানে যুগ গতি সম্পন্ন হলেও, আবেগের কারণে এবং অভ্যাসগত কারণে ডাক্তারবাবু আজও একই রকম ভাবে চলাফেরা করেন এই রিকশা তেই ভর করে। ডাক্তার অপরূপ দেবনাথ বলেন, একসময়ে এক-দেড় হাজার রিক্সার সংখ্যা আজ ১০-১৫ টাই দাঁড়িয়েছে। তিনি হয়তো সবাইকে বাঁচাতে পারবেন না তবে, যে রিক্সা তার জীবনের এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ বছর সঙ্গ দিয়েছে তাকে তিনি কোনো ভাবেই অবহেলায় মরতে দেবেন না । ডাক্তার বাবু বলেন,শুধু তিনিই নন, শান্তিপুর পুঁইপাড়ায় বাড়ি হলেও, চিকৎসক কারণে ডক্টর অমরনাথ প্রামানিক কলকাতায় থাকেন বেশিরভাগ দিন। সপ্তাহে এক বা দুদিন বাড়িতে ফিরলে, রেলস্টেশন থেকে বাড়ি পর্যন্ত হোক বা অন্যান্য প্রয়োজনে আজও শ্যামল বাবুর রিকশা কেই ভরসা করেন তিনিও।
এ প্রসঙ্গে রিকশা চালক শ্যামল কুন্ডু বলেন, একসময় এই দুই ডাক্তারবাবুর প্রদেয় ভাড়া সেসময় এক-দেড়শ টাকা উপার্জন হত যা আজকের দিনে প্রায় চার পাঁচশ টাকা সমান।
তিন ছেলের পড়াশোনা স্ত্রী এবং মাকে নিয়ে সংসার সবটাই এই তিন চাকার উপর ভর করে, ষাটের উপর তার যেমন বয়স হয়েছে, রিক্সারও বয়স ৩০ পার। তাই উপার্জনে তার মতো রিকশাও অক্ষম হয়ে উঠেছে, কিন্তু সংসার যেমন তাকে পরিত্যাগ করেনি, তিনিও ওই রিক্সা খানি কখনো পরিত্যাগ করবেন না। এই দুই ডাক্তারবাবু ছাড়াও, কখনো সখনো শখ যদি কেউ চড়ে বসে, তাতেই যা দু দশ টাকা হয়, তা হাত খরচের ব্যবস্থা হয়। সংসার চালায় মূলত ছেলেরাই। তবে তারাও বুক দিয়ে আগলে রেখেছে এই রিকশা।

