জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি, বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী এলেন নির্বাচনক্ষেত্র হরিপুরের রথযাত্রায়

মলয় দে নদীয়া:-
শান্তিপুরের বিখ্যাত হরিপুরের রথ এবার সপ্তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। এলাকার অধিবাসীরা বেশিরভাগ তন্তু সম্প্রদায়ের মানুষ হওয়ার কারণে আজ থেকে ছয় বছর আগে তারা সিদ্ধান্ত নেন রথ করবেন। কিন্তু অভাবের কারণে মূল্যবান কাঠ জোগাড় করা সম্ভব হয়ে উঠেছিলো না। তবে প্রত্যেকেই তাদেরর নিজেদের বাতিল তাঁতের বিভিন্ন কাঠের অংশ প্রদান করে রথ নির্মাণের উদ্দেশ্যে। এরপর গড়ে ওঠে সুবিশাল রথ।
অন্যদিকে জগন্নাথ বলরাম সুভদ্রার কাঠের মূর্তি হরিপুর মাঝের পাড়াসারাবছর রমাপ্রসাদ মুখার্জী ওরফে রবি ঠাকুরের বাড়িতে নিত্য পুজিত হয়। আজ রথযাত্রা উপলক্ষে, সমগ্র হরিপুর বাসীর উপস্থিতিতে কীর্তন দল সহযোগে শোভাযাত্রার মধ্যে দিয়ে প্রথমে কোলে চড়ে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা মনসা তলায় রথে চাপেন। এরপর পুরীর নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম টান পড়ে। তিন ঘন্টা বাজে বাজে আরো বেশ কয়েকটি টান পড়ে সারাদিনে। এভাবেই উলুধ্বনি শঙ্খ ধ্বনি এবং কীর্তন সহযোগে এগিয়ে চলা জগন্নাথ বলরাম সুভদ্রার রথ হরিপুরেরই বেনে পাড়ায় পার্থসারথি ভট্টাচার্য ওরফে বাবলা ঠাকুরের বাড়ি আজ থেকে সাত দিন অবস্থান করবে জগন্নাথ বলরাম সুভদ্রা। রথ ফিরে আসবে, পূর্বের স্থান মনসা তলায়। ঠিক সাত দিন বাদে উল্টো রথে আবারো রথে চড়ে ফিরে আসবেন রমাপ্রসাদ মুখার্জির বাড়িতে।
এবার পঞ্চায়েত নির্বাচন। সব রাজনৈতিক দলের গ্রামের, সমিতির এবং জেলা পরিষদের সকল প্রার্থীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যার মধ্যে প্রথম টানে উপস্থিত না থাকতে পারলেও, কিছুটা পরে উপস্থিত হন প্রাক্তন জেলা পরিষদ সভাধিপতি বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা পরিষদের প্রার্থী রিক্তা কুন্ডু। ওই এলাকার গ্রাম সভা পঞ্চায়েত সমিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীদের নিয়ে পুজো দিলেন জগন্নাথ দেবের কাছে। মঙ্গল কামনা করলেন এলাকাবাসীর।
যদিও এ প্রসঙ্গে রথযাত্রা উদ্যোক্তারা জানান, বিজেপি কংগ্রেস সিপিএম সহ বিভিন্ন বিরোধী দলের প্রার্থীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যাতে তারা জগন্নাথ দেবের আশীর্বাদ নিয়ে নিজেদের প্রচার শুরু করেন। অনেকেই এসেছিলেন আজ।