জীবনে কখনো ইনজেকশন নেননি, ওষুধ খেয়েছেন হাতে মাত্র কয়েকবার, শুনুন ১২০ বছরেরও নিরোগ থাকা এক বৃদ্ধার কাহিনী

মলয় দে নদীয়া :- দেশভাগের সময় মৃত্যু হয় বড় মেয়ের তখন তার বয়স ছিলো ৫০ বছর, তার বেশ কয়েক বছর বাদে বড় ছেলেরও মৃত্যু হয়, ষাট বছর বয়সে। নাতির পর পুতি তারপর স্থানীয় ভাষায় ছাতি এভাবেই হাফ সেঞ্চুরি সংখ্যক পরিবারের সবচেয়ে প্রবীনা হিসাবে আজও তিনি নিরোগ এবং সুস্থ। পরিবার সদস্যদের দাবি তার বয়স ১২০ বেশি, যদিও বাংলাদেশ থেকে আসার পর নানান রকম রাজনৈতিক কারণে তার ভোটের কার্ড বা আধার কার্ড করা সম্ভব হয়নি।
দেশভাগের সময়, মৃত্যু হয় সত্তর বছর বয়সী বড় মেয়ের, সেজো ছেলের বয়স ৬৩, বড় ছেলের ঘরের বড় নাতির বয়স পঞ্চান্ন, আর এই সমস্ত হিসাব করেই পরিবার সদস্যদের দাবি, পরিবারের সবচেয়ে বয়স জ্যেষ্ঠ সাবিত্রী দত্তর বয়স একশো কুড়ি বছরেরও বেশি।
তবে বিতর্ক এড়িয়ে শতবর্ষ পার হওয়া এই বৃদ্ধা , এখনো নিজে হাতে খান তিন বেলাই ভাত। পড়ে গেছে সবকটি দাঁত, কানে শোনেন সামান্য। তবে স্মৃতিশক্তি ঘুন ধরে নি এতটুকু , স্বামীর নাম ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, বিয়ে হয়েছিল ১০ বছর বয়সে, বাবা তারিনী ঘোষাল পৌরহিত করতেন, প্রচুর সম্পত্তি ছিলো তাদের, এই সমস্ত যাবতীয় তথ্য তিনিই দিলেন আমাদের। এখনো পর্যন্ত তার মুখ থেকে রামায়ণ মহাভারত, এবং ধর্মীয় নানা গল্প পাঁচালী শুনতে প্রতিবেশীরা ভিড় জমান মাঝেমধ্যেই।
তবে যেখানে, বর্তমান সমাজে ৪০ বছর বয়স পার হলেই, নানান রোগের মধ্য দিয়ে বার্ধক্যের প্রবেশ ঘটে সেখানে শতবর্ষ পার করা এই বৃদ্ধা, শোনালেন সুস্থ থাকার উপায়।
বলেন জীবনে কখনো ইনজেকশন নিইনি, ওষুধ খেয়েছি হাতে গুনে মাত্র কয়েকবার। ছোটখাটো জর জারি পেটের ব্যামো এখনো সারে এমনিই। তবে রাত দশটার মধ্যে ঘুমাতে যাওয়া এবং ভোর পাঁচটার আগে ঘুম থেকে ওঠা এটাও তার দ্বিতীয় উপলব্ধি চিরতারুণ্য থাকার। কৃত্তিমতা থেকে দূরে থেকে প্রকৃতির কোলে থাকলে, প্রকৃতিই নাকি রক্ষা করে।