মলয় দে নদীয়া :-দশ মাস গর্ভেধারণ করে , তিল তিল করে নিজের শখ শৌখিনতা চাওয়া পাওয়া ভুলে সন্তান মানুষ করে, জীবনের শেষ লগ্নে এসে তারই হাতে নিগৃহর মতন নির্লজ্জ ঘটনা নদীয়ার শান্তিপুর হরিপুর পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বিলের ধারপাড়ায়।
অত্যন্ত দারিদ্রতার সাথে লড়াই করে দুই মেয়ের বিবাহ, এবং দুই ছেলেকে বড় করে তুলেছেন ৭০ উর্ধ্ব প্রবীণ দম্পতি শচীন্দ্র দেবনাথ ও তরুবালা দেবী দেবনাথ।
যার মধ্যে ছোটো ছেলে প্রদীপ জন্ম থেকেই শারীরিক অসুস্থতা, কোনরকমে তাঁতকাপড় উৎপাদনের সহযোগী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন অন্যের কাছে। তাই দিয়ে স্ত্রী মা-বাবার মুখে দুটো অন্ন যোগান কোন মতে। কিন্তু দাদা নির্মল দেবনাথ ডাকনাম বুধন , সাইকেল খেলা দেখাতে বেশিরভাগই সময় থাকেন বাইরে বাইরে, মাঝে মাঝে এসেই তার ওপর এবং বৃদ্ধ মা বাবার উপর অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং মারধোর করে প্রায়শই। ভাই প্রদীপের দাবি, দাদাকে বাবা মায়ের সামান্য জমির অংশ,এক লক্ষ টাকা, এবং সরকারি ঘরের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও বৃদ্ধ বাবা মার কোনো দায় দায়িত্ব পালন না করেই, টাকার দাবি করতে থাকে মাঝেমধ্যে এসে।এর থেকে পরিত্রাণ পেতে শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। বোনেরাও মীমাংসা করতে এসে মার খেয়েছে দাদার হাতে। তারাও লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলো শান্তিপুর থানায়। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থাই নিতে পারিনি পুলিশ।
মা তরুবালা দেবী বলেন, জন্ম দেওয়া সন্তানের প্রতিদান হিসাবে এভাবে দিনের পর দিন মারধোর এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুনতে হবে তা কখনো ভাবিনি। বাদ দেয় না জন্মদাতা বাবাকেও, তার হাত ধরে খাটের উপর থেকে ফেলে দিয়ে পা ভেঙে ছিল একবার। কিছুদিন আগে এসে আমাকে চুলের মুঠি ধরে দেয়ালে মাথা ঠুকে, গালে চড় মেরেছিলো এলোপাতাড়ি। প্রতিবেশীরা তাকে ভালোভাবে বোঝানো, চাপ সৃষ্টি করা সবটাই করেছে কিন্তু, তাতেও কোন কাজ হয়নি।
স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামী তারক দেবনাথ বলেন, রাত বিরাতে হঠাৎ আধ ঘন্টার মধ্যে এসে এ ধরনের অন্যায় করে চলে যায় সে, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাকে মারার অধিকার তো আমার নেই। তবে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করব ওর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। প্রতিবেশীরাও জানান, জেলাশাসক মহকুমা শাসকগণ এ ধরনের বিষয়ে বাড়তি দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তাই প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে তাদের শরণাপন্ন হতে হবে।
ভাই প্রদীপ দেবনাথ, তিনবার শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগের কপি বের করে বলেন, এই এলাকায় সকলেই অতিষ্ঠ এই ঘটনায়। কিন্তু পুলিশ কোনো সদর্থক ভূমিকা নিচ্ছেন না কেন তা বুঝতে পারছি না। এর আগে একবার ধরে নিয়ে গেলেও কয়েকদিন বাদে, তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বড় ভাই হলেও, মা-বাবাকে খুনের হুমকি দেওয়ার কারণে যথেষ্ট চিন্তায় রয়েছি। ওকে জেল বন্দি করে রাখলেই বাঁচবে বৃদ্ধ বাবা-মা।

