মলয় দে নদীয়া:- প্রায় প্রতি রাত্রেই শান্তিপুরে কোথাও না কোথাও চুরির ঘটনা শোনা যায়।
এরই মাঝে সংখ্যায় খুব কম হলেও মাঝেমধ্যে এলাকাবাসীরাই ধরে ফেলে চোরেদের, তবে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারো ধরা পড়ে যাবার চুরির অভিজ্ঞতা নিয়ে নতুন ফন্দি আটে তারা।
গতকাল শান্তিপুর শহরের দাদ্দে নিকারি পাড়া লেনে, কামারুজ্জামান চৌধুরীর বাড়িতে, এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে মধ্যরাতে।
কামরুজ্জামান, সংসারের অভাবে ভিন রাজ্যে থেকে কাজ করেন, এখানে মা স্ত্রী দুই ছেলেমেয়ে থাকেন। অত্যাধিক গরম পড়ার কারণে তারা বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিলেন। তবে স্ত্রী ও সদ্যজাত বাচ্চা ঘুমিয়ে ছিলেন ঘরে।
আনুমানিক ভোর তিনটা নাগাদ লক্ষ্য করেন বারান্দার বাঁশের ঝাঁপ খোলা, দুই ঘরের দুটি দরজাই খোলা, মাথার পাশে রাখা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল, বেশ কিছু রুপোর গহনা এবং ব্যাগে রাখা নগদ ১০ হাজার টাকা খোয়া গেছে।
কিছুটা দূরেই ওই বাড়ির মেয়ে ডালিয়া চৌধুরী বাড়ি, তাকে জানাতে ই সে বাপের বাড়িতে এসে চুরি যাওয়া মোবাইলে ফোন করেন, ফোন ধরার পর জালিয়া দেবী কাকুতিমিনতি করেন ওই মোবাইলে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে, মোবাইলটা ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু প্রথমে রাজি হলেও পরবর্তীকালে ফোন কেটে দেয় চোর।
এরপর কামারূজ্জামান ওই নাম্বারে ফোন করলে তার সঙ্গেও কথা হয়, এবং তিনি প্রশ্ন করেন নতুন পুকুরে বাড়ি আয়েব শেখ কিনা, মদ্যপ অবস্থায় থাকার কারণে উত্তর দেয় হ্যাঁ, টাকা রেখে দিয়ে মোবাইল ফেরত দেওয়ার জন্য রাজিও হয়।
সেইমতো আজ সকালে, ডালিয়া দেবী তাদের বাড়িতে গিয়ে, গতকালকের কণ্ঠস্বর নিশ্চিত করতে প্রথমে আই এফ শেখের ভাই নায়েব কে ফোনে কথা বলার তার ভাই কামারুজ্জামানের সঙ্গে, পরবর্তীতে আয়েবের সঙ্গেও কথা বলালে, নিশ্চিত হন গতকাল রাতে আয়েবের সাথে কথা হয়েছিলো।
এরপর ওই বাড়ির মা বোন ডালিয়া দেবীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে, এমনকি পরবর্তীতে বাড়িতে এসেও হুমকি দিয়ে যায়।
গোটা ঘটনা জানিয়ে, ডালিয়া দেবীর মা রহসোনা খাতুন আজ শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, পরিবার ছেড়ে ছেলে বাইরে থাকে দুটো রোজগারের জন্য। এ মাসে এ মাসে পাঠানো সংসার খরচ পুরোটাই নিয়ে গেছে চোরে, কিন্তু তার থেকেও বেশি মূল্যবান মোবাইল কারণ সেখানে নানান ধরনের তথ্য রয়েছে। তবে নিশ্চিত করা চোরদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এই অঞ্চলে পরিত্যাক্ত বাগানে মদ্যপানের আসর বসে মাঝে মধ্যেই। তাই নেশাগ্রস্ত অবস্থায়, এসে এমন কিছু স্প্রে করেছে যাতে আমরা সকলেই অঘরে ঘুমিয়েছি, এমন কি প্রচন্ড গরমেও বাচ্চা কাঁদেনি।

